কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (২৫ মে) দুপুর ২টা থেকে মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত (এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) এই দুই উপজেলায় কার্যত অচল হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা।
বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর কম্পানির নেটওয়ার্ক সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রাহকরা। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। এদিকে একটি-দুটি সিম কম্পানির মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া গেলেও বেশিরভাগ কম্পানির নেটওয়ার্ক একদমই নেই বললেই চলে।
ওয়াইফাই সেবাও বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ সংকেত হাসান জানান, গত কয়েক দিন ধরে দিনে-রাতে মিলিয়ে মাত্র এক ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, তাও আবার মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে কার্যত বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও মাস শেষে অতিরিক্ত বিল গুনতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।খালিদ হাসান জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ হয়ে গেছে। অনলাইনে ঢুকতে পারছি না। সামনে ঈদ, এই মুহূর্তে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থী রাজিবুজ্জমান জিম বলেন, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকগুলো চার্জ দিতে না পারায় রাস্তায় গাড়ি নেই বললেই চলে। ফলে অল্প কিছু যানবাহন চললেও কয়েকগুণ বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
তাছাড়া মোবাইল পুরো চার্জ দেওয়ার মতো বিদ্যুৎও পাচ্ছি না।
ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানচালক আব্দুল বাকি মিয়া বলেন, কারেন্ট না থাকায় ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছি না। গাড়ি নিয়ে বের হতে পারছি না। দিন এনে দিন খাই। সামনে ঈদ, গাড়ি নিয়ে বের হতে না পারলে ঈদের দিন কী খেয়ে থাকমু বাপু—এখন সংসার চালানোই কঠিন হয়ে গেছে। আগে ১ হাজার টাকা কামাই হতো, এখন ১৫০-২০০ টাকাও কামাই করতে পারি না।
বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে মিষ্টি তৈরি করছেন কারিগররা।
মিষ্টি ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, সারাদিন বৃষ্টি, বিদ্যুৎ নেই। সামনে ঈদ, মিষ্টি তৈরি করব কিন্তু আলো নেই। তাই কুপিবাতি জ্বালিয়ে মিষ্টি তৈরি করছি। খুবই অসুবিধায় আছি।
রাজিবপুর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী মো. শাহীন মাহমুদ জানান, সামনে ঈদের কেনাকাটা করতে ক্রেতারা এসে অন্ধকারে কিছু দেখতে না পেরে বিপাকে পড়ছেন। দিনে-রাতে মিলিয়ে ২-৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও টানা এত লম্বা সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট ও ওয়াইফাই সেবা বন্ধ রয়েছে। ফলে সফটওয়্যারের মাধ্যমে লেনদেনও করতে পারছি না।
স্থানীয়রা বলেন, কয়েক দিন ধরেই তীব্র লোডশেডিং চলছিল। সোমবার থেকে টানা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সায়েকুল হাসান খানও জানান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশা করা হচ্ছে।এ বিষয়ে জামালপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির রৌমারী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।
টানা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে এই দুই উপজেলায়। দ্রুত সমস্যার সমাধান চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা
।