বাংলাদেশে কর্মরত একটি বিদেশি বিনিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এক প্রবাসী কর্মীকে চাকরিসংক্রান্ত পাওনা থেকে বঞ্চিত করতে বিতর্কিত নথি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ঘটনাটি বর্তমানে বাংলাদেশের অপরাধ তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইডি) তদন্ত করছে। একই সঙ্গে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকায় বিষয়টি জটিল আইনি রূপ নিয়েছে।
অভিযোগগুলো পোয়েটিকজেম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে কেন্দ্র করে, যা হংকংভিত্তিক গার্মেন্টস সোর্সিং গ্রুপ পিডিএস লিমিটেডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বাংলাদেশভিত্তিক প্রতিষ্ঠান।
পিডিএস লিমিটেড বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ এবং ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত। অন্যদিকে পোয়েটিকজেম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডও কম্পানির বিরুদ্ধে কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগে সাবেক ওই কর্মীর বিরুদ্ধে প্রধান মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা করেছে।
পোয়েটিকজেম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার (এইচআরবিপি) বদরুজ্জামান সুমন মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই সাবেক কর্মচারী একটি ভুয়া ই-মেইল আইডির মাধ্যমে বিভিন্ন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে পোয়েটিকজেম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছেন এবং কোম্পানির গোপনীয় তথ্য ফাঁস করেছেন, যার ফলে কম্পানির ১৩৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।পোয়েটিকজেম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তকারী সিআইডির সাব-ইন্সপেক্টর হারুনুর রশিদ বলেছেন যে, পোয়েটিকজেম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে একজন ভারতীয় প্রবাসী কর্মীর করা মামলাটি এখনো তদন্তাধীন।
এসআই বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পোয়েটিকজেম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি সত্য কি না, তা তিনি বলতে পারবেন না। তদন্ত শেষ হতে আরো এক মাস সময় লাগতে পারে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কম্পানিটি একটি বিতর্কিত পদত্যাগপত্রের ভিত্তিতে তার একজন কর্মচারীর ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে।
এ পরিস্থিতিতে, ওই কর্মচারীও পাল্টা মামলা করেছেন, যার মধ্যে একটি ফৌজদারি মানহানির মামলা এবং একটি জালিয়াতির মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন।
আইনি পরামর্শদাতার মাধ্যমে দাখিল করা তথ্য অনুযায়ী, ব্যয় সংকোচনের কারণ দেখিয়ে ওই কর্মচারীর চাকরিচ্যুতিকে বরখাস্ত হিসেবে জানানো হয়েছিল। তবে পরবর্তী দাখিলকৃত নথিতে এ চাকরিচ্যুতিকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
আদালতের নথিতে আরো অভিযোগ করা হয়েছে যে, ওই সাবেক কর্মচারী যখন শারীরিকভাবে বাংলাদেশের বাইরে ছিলেন, তখন ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত একটি পদত্যাগপত্র তৈরি ও ব্যবহার করা হয়েছিল। ওই কর্মচারী যে সংশ্লিষ্ট সময়ে ভারতে ছিলেন, এ দাবির সমর্থনে পাসপোর্ট এবং অভিবাসন রেকর্ড দাখিল করা হয়েছে।বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী, চাকরিচ্যুতিকে বরখাস্ত বা পদত্যাগ হিসেবে শ্রেণিবিভাগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চাকরিচ্যুতির ধরনের ওপর নির্ভর করে আইনগত অধিকার ভিন্ন হতে পারে। তাই এ বিতর্কিত শ্রেণিবিভাগটি বিচারাধীন মামলার একটি কেন্দ্রীয় বিষয়।
পর্যালোচনা করা নথি থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, বিতর্কিত পদত্যাগপত্রটি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সম্পর্কিত নথিপত্রসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক নথিপত্রে ব্যবহার করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট ফোরামের সামনে উপস্থাপিত নথিভুক্ত সময়রেখা অনুসারে, ব্যয় সংকোচনের কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হচ্ছে বলে কর্মচারীকে গত বছরের ৩১ জুলাই কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি মাইক্রোসফট টিমস ভিডিও কলে জানানো হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, কোম্পানিটি একটি বিতর্কিত পদত্যাগপত্রের ভিত্তিতে তার একজন কর্মচারীর ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করে।
এ পরিস্থিতিতে, ওই কর্মচারীও পাল্টা মামলা করেছেন, যার মধ্যে একটি ফৌজদারি মানহানির মামলা এবং একটি জালিয়াতির মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন। আইনি পরামর্শদাতার মাধ্যমে দাখিল করা তথ্য অনুযায়ী, ব্যয় সংকোচনের কারণ দেখিয়ে ওই কর্মচারীর চাকরিচ্যুতিকে বরখাস্ত হিসেবে জানানো হয়েছিল। তবে পরবর্তী দাখিলকৃত নথিতে এ চাকরিচ্যুতিকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আদালতের নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, ওই কর্মচারী যখন শারীরিকভাবে বাংলাদেশের বাইরে ছিলেন, তখন ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত একটি পদত্যাগপত্র তৈরি ও ব্যবহার করা হয়েছিল। ওই কর্মচারী যে সংশ্লিষ্ট সময়ে ভারতে ছিলেন, এ দাবির সমর্থনে পাসপোর্ট এবং অভিবাসন রেকর্ড দাখিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী, চাকরিচ্যুতিকে বরখাস্ত বা পদত্যাগ হিসেবে শ্রেণিবিভাগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চাকরিচ্যুতির ধরনের ওপর নির্ভর করে আইনগত অধিকার ভিন্ন হতে পারে। তাই বিতর্কিত শ্রেণিবিভাগটি বিচারাধীন মামলার একটি কেন্দ্রীয় বিষয়।
সূত্রমতে, গত বছর ১ আগস্ট কোম্পানিটি চাকরিচ্যুতির বিষয়টি স্বীকার করে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি সম্পন্ন হবে বলে জানিয়ে একটি ইমেইল পাঠায় বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনি নথিতে ইমেইলটিকে এ অবস্থানের সমর্থনে উদ্ধৃত করা হয় পদত্যাগ হিসেবে নয়, বরং চাকরিচ্যুতি হিসেবে। পরবর্তী নিষ্পত্তি আলোচনার অংশ হিসেবে বৃহত্তর পিডিএস গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরও যোগাযোগের কথাও আইনি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই বছর ৯ আগস্ট, কোম্পানিটি ১,৫১,৬০০ মার্কিন ডলারের একটি নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেয় বলে জানা গেছে। কর্মচারীর আইনি আবেদনে তার দাবিকরা অর্থের পরিমাণ ৯,১৭,৩৯৩ মার্কিন ডলার, যা ১৩ বছরের চাকরি, বকেয়া বেতন, ইএসওপি-সংক্রান্ত প্রাপ্য, চুক্তিভিত্তিক পাওনা এবং ক্ষতিপূরণের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।নিষ্পত্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর, কর্মচারী আইনি কার্যক্রমে অভিযোগ করেন যে, কোম্পানিটি একটি জাল ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত বিতর্কিত পদত্যাগপত্র ব্যবহার করেছে এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে প্রধান মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে। কোম্পানিটি ১৩৫ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগ করেছে, যা কর্মচারী বিচারাধীন মামলায় অস্বীকার করেছেন।
এদিকে কর্মচারী সিএমএম আদালত এবং ঢাকার শ্রম আদালতসহ পৃথক দুটি মামলাও দায়ের করেছেন। চলতি বছর ২৭শে এপ্রিল দায়ের করা শ্রম আদালতের মামলায় যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, কর্মচারীটি বাংলাদেশ শ্রম আইনে একজন ‘শ্রমিক’ হিসেবে যোগ্য এবং তিনি গ্র্যাচুইটি ও অন্যায়ভাবে বরখাস্তের জন্য ক্ষতিপূরণসহ বিধিবদ্ধ সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। সিএমএম আদালত বিষয়টি তদন্ত করার জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছে। এ প্রতিবেদকের কাছে মামলার সমস্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ফাইল সংগ্রহে রয়েছে।