অভিযোগ যেন পিছু ছাড়ছে না বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম আহমেদের বিরুদ্ধে।
একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
গত ১১ আগস্ট রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে দুর্নীতিগ্রস্ত বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সেলিম আহমেদের প্রসারণের দাবিতে লিখিত অভিযোগ করেন মেহেদী নামের এক ব্যক্তি।
লিখিত ওই অভিযোগ সূত্রে জানা যায় অভিযোগকারী তিনি একজন ফ্যামিলি কার্ড শুমারি ২০২৬ কার্যক্রমে সেচ্ছাসেবী সুপারভাইজার পদের পরীক্ষার্থী।
তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন প্রাথমিকভাবে মনোনীত তথ্য সংগ্রহকারী পদের ৪৭৭পরীক্ষার্থী নির্বাচিত করার পরেও চূড়ান্ত ফলাফলে ৪৭৮-৪৯২ রোল পাওয়া যায়। সুপারভাইজার পদে মনোনীত সোহেল রানা, নুর মোহাম্মদ,রোল নং ৪৩ একজন পদধারী যুবলীগ নেতা, তিনি হামিরকুৎসা ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি। এছাড়াও তথ্য সংগ্রহকারী একাধিক পরীক্ষার্থী পদধারী আওয়ামী লীগ নেতার সন্তান। যেমন তারেক আহমেদ পিতা লোকমান আলী ঝিকরা ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি, যার রোল নং ২৯৫।একই পরীক্ষার্থী একই সাথে চূড়ান্ত ফলাফলের তথ্য সংগ্রহকারী এবং সুপারভাইজার পদে মনোনীত হন । নাম মোহাম্মদ শাহিন আলম পিতা মোঃ আব্দুর রহিম তথ্য সংগ্রহকারী রোল ১০২,এবং সুপারভাইজার পদের রোল নাম্বার ১৪। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নামে নিম্নের অভিযোগগুলো রয়েছে সরকারি গোডাউনে চাল ক্রয় ও ধান ক্রয়ে পার্সেন্টেজ খেয়ে দুর্নীতি। কৃষি অফিসে বৃক্ষরোপনের কাজ করে দুর্নীতি, ডিলারদের কাছে প্রতি মাসে মাসোয়ার,অফিসের প্রতিটি ফাইলে ওয়ান পারসেন্ট, পুকুর খানে অবাধ টাকার লেনদেন ইত্যাদি ওই অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন। এছাড়াও
বুধবার সরজমিনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশ্ন করতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে যান এবং এক কর্মকর্তাকে লাথি মেরে অফিস থেকে বের করে দিতে চান(ভিডিও ফুটেজ আছে) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এর মেগা প্রকল্পের মধ্যে খাল খনন ও ফ্যামিলি কার্ডকে বলা চলে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই দুইটি মেগা প্রকল্প হরি লুটের প্রশ্ন উঠেছে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম আহমেদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় তিনি বাগমারায় ১৪ কিলোমিটার খাল খননের কথা থাকলেও সেখানে তিনি সাড়ে ৮ কিলোমিটার খাল খনন করেছেন বাকি কাজগুলো না করেই কিছু টাকা অব্যাহত দেখিয়ে
ফেরত দিয়েছেন বলে জানান এবং জুন মাসের মধ্যে সমন্বিত কমিটির মাধ্যমে ব্যয় নির্ধারণ করার কথা থাকলেও
তা তিনি করেননি। পশ্চিম বাগমারা বাইগাছা থেকে হাট গাঙ্গোপাড়া পর্যন্ত এক কিলোমিটার খাল খনন করে সেখানে ৪ কিলোমিটার খাল খনন দেখিয়ে সম্মনিত ব্যয়ের জন্য প্রকল্প তৈরি করেন বলে জানা যায়।যেখানে যথেষ্ট পরিমাণ অনিয়ম দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে।
এ বিষয়ে অ্যাকাউন্ট অফিসার (সাবেক) রবিউল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমার জানামতে এখন পর্যন্ত অর্থ ফেরতের বিষয়ে কোন কাগজপত্র আসে নাই আমাদের অফিসে। গত ৩০-০৬-২৬ইং তারিখে খাল খননের বিল সমন্বয় করার কথা থাকলেও সেটা হয়নি বলে জানান।
খাল খনন দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন জানান এখানে ৭ কিলোমিটার খাল খননের কথা থাকলেও ১.৫কিঃমিঃ খাল খনন হয়েছে এবং খালের দুই ধারে গাছ লাগানোর কথা থাকলেও একটি গাছও এখন পর্যন্ত লাগানো হয় নাই।
এছাড়াও বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে
গত ১০ ই আগস্ট বাগমারা উপজেলা পরিষদ চত্বরে
মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত মানববন্ধনে বাগমারা সাধারণ জনগণ ও পরীক্ষার ফল থেকে বঞ্চিত অনেকেই মানববন্ধন থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম আহমেদ এর শাস্তির দাবি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন আমাদের বিভিন্ন অফিসের যেমন কৃষি,মৎস্য, এলজিইডি, পিআইও, ভূমি, সমাজসেবা অফিসের কাগজপত্র বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে রাখা হয়েছে এবং সন্ধ্যার পরে পছন্দের ব্যক্তিদের সাথে সেগুলো বিষয়ে রফাদফা করা হচ্ছে। যেমন খাস পুকুরগুলি ইজারার মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই না তিনি বাগমারা সহকারী কমিশনার ভূমি
অন্যত্র বদলি হওয়ার পরে এবং নতুন সরকারি কমিশনার ভূমি যোগদানের পর তিনি পূর্বের তারিখ ব্যবহার করে খাসপুকুর ইজার দেওয়ার প্রক্রিয়া করছেন বলেও গোপন সূত্রে জানা যায়।এছাড়াও তিনি পিআই অফিসের টি'আর খাবি খা, কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন বলে জানা যায়।
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সকল সাংবাদিকদের সদয় অবগতির জন্য জানিয়েছিলেন
বাগমারা উপজেলায় ২ টি খাল খনন প্রকল্পের ১৪ কিমি খাল খনন এ-র জন্য মোট ৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। এ-র মধ্য ঝিকরা ইউনিয়নের ৭ কিমি খাল খনন শেষ করে সরকারি টাকার অপচয় রোধকল্পে ১৮ লক্ষ ৭৪ হাজার ৮ শত টাকা এবং শুভডাংগা ইউনিয়ন এ-র ৭ কিমি খালের প্রায় ৩ কি মি খাল খননের কাজ শেষ করে ১ কোটি ৩০ লক্ষ ২৩ হাজার ৯৩২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে মোট প্রায় ১০ কিমি খাল খনন শেষে বরাদ্দকৃত ৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার মধ্যে সরকারি টাকার স্বচ্ছতা নিশ্চিতকল্পে মোট ১ কোটি ৪৮ লক্ষ ৯৮ হাজার ৭৩২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে নিয়েছিলেন।
এছাড়াও উপজেলা পরিষদের চত্বরের মধ্যে থাকা
বিভিন্ন আম ও কাঠাল বিক্রি অর্থ লোপাট করেছেন বলেও জানা যায়। গ্লোবাল উন্নয়ন সেবা সংস্থা(গাস) কর্তৃক কাতার চেরিটি নামক আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার অনুদানের মাস্টার রোলের তালিকায় ক্রমিক নং ৪ এ একটি সিএনজি উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় রাখা হয়।
এসব বিষয়ে অভিযোগকারী মেহেদী হাসানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি লিখিত অভিযোগ আমার মনে হয় বাগমারার সর্বস্তরের মানুষের স্বার্থে বর্তমান বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম আহমেদ কে অপসারণ করা দরকার তা না হলে এই উপজেলার ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এসব বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম আহমেদ সকল কার্যক্রম সঠিক প্রক্রিয়ায় করা হয়েছে বলে দাবি করেন।