দীর্ঘদিনের অর্থসংকটে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে জাতীয় টেলি স্বাস্থ্যসেবা ‘স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩’। গত ১৭ মাস ধরে বিল পরিশোধ না হওয়া এবং কার্যক্রম নবায়নের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় এই জাতীয় সেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
দেশের সমন্বিত জাতীয় স্বাস্থ্য অবকাঠামোর অংশ হিসেবে চালু হওয়া এই বিনামূল্যের সেবাটি দিন-রাত ফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা পরামর্শ ও স্বাস্থ্য সহায়তা দিয়ে আসছে। বর্তমানে পালাক্রমে ১০০ জন এমবিবিএস চিকিৎসক ও ২৫ জন হেলথ ইনফরমেশন কর্মকর্তা এখানে সেবা দিচ্ছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য বাতায়নে ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ৭৭৩টি কল রেকর্ড করা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার কল আসে। সেবা চালুর পর থেকে মোট ২ কোটি ৭০ লাখের বেশি কল গ্রহণ করা হয়েছে, যা এর প্রয়োজনীয়তা ও জনপ্রিয়তার প্রমাণ।
এই সেবার মাধ্যমে সাধারণ ও বিশেষ রোগের চিকিৎসা পরামর্শ, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সহায়তা, পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ও রক্তের তথ্যসহ নানা সেবা দেওয়া হয়।
প্রয়োজনে ই-প্রেসক্রিপশন ও ভিডিও কলের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবাও দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৭ মাস ধরে এ সেবার জন্য কোনো অর্থ ছাড় করা হয়নি। চলতি বছরের এপ্রিলেই কার্যক্রম নবায়নের মেয়াদ শেষ হলেও তা নবায়নের জন্য দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর বলেন, প্রকল্পভিত্তিক অর্থায়নের ওপর নির্ভর করায় মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অপারেশন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে এবং অপারেশন প্ল্যান পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রস্তাব পাঠালে মন্ত্রণালয় তা বিবেচনা করবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বাস্থ্য বাতায়ন বন্ধ হয়ে গেলে দেশের টেলি-স্বাস্থ্য খাতে বড় ধাক্কা আসবে এবং সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দ্রুত অর্থ ছাড় ও কার্যক্রম নবায়নের জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।