প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ৪, ২০২৬, ৯:১৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২২, ২০২৬, ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ
বংশ খাল এখন আবর্জনার ভাগাড়
একসময় জামালপুর শহরের প্রাণ ছিল বংশ খাল। বর্তমানে সেই খাল পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে। খালের বর্জ্যপচা পানি, অসহনীয় দুর্গন্ধ আর মশা-মাছির উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে নগরবাসী।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালটি প্লাস্টিক, পলিথিন, গৃহস্থালির বর্জ্যসহ নানা ধরনের আবর্জনায় ভরা।কাছে যেতেই নাকে আসে দুর্গন্ধ। স্থির পানি কালো রং ধারণ করেছে। ময়লার স্তূপের ওপর উড়ছে মশা-মাছি। খালের দুই পাড়ে গড়ে ওঠা বাসাবাড়ি, হোটেল, রেস্তোঁরা, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বর্জ্যও খালে ফেলা হচ্ছে।
পানিতে ময়লা-আবর্জনা জমে তৈরি হয়েছে মশা-মাছির নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র।
স্থানীয়রা জানায়, খালটি শহরের গেটপাড়া, মালগুদাম, মৃধাপাড়া, মুকুন্দবাড়ি, দয়াময়ী মোড়, রানীগঞ্জ বাজার হয়ে কালীঘাট দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে গিয়ে মিশেছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না করায় এর পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা আরো জানান, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় খালটি দখলমুক্ত ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
ওই সময় খালের তলদেশ আরসিসি ঢালাই করে পানিপ্রবাহের জন্য ড্রেনের মতো ব্যবস্থা করা হয় এবং দুই পাশে খালরক্ষা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। তবে বর্তমানে খালের কোথাও প্রস্থ তিন মিটার, কোথাও আড়াই মিটারে নেমে এসেছে। বর্তমানে এর দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা, হোটেল-রেস্তোঁরা, বেসরকারি হাসপাতালসহ নানা স্থাপনা। এসব স্থাপনা ও আশপাশের এলাকার বর্জ্য নিয়মিত খালে ফেলা হচ্ছে।
শহরের রানীগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘একসময় খালটি পরিষ্কার ছিল।এখন সারাদিন দুর্গন্ধ ছড়ায়, আর সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় মশার আক্রমণ। মশার কারণে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
ওই এলাকার ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, খাল থেকে আসা তীব্র দুর্গন্ধ, নোংরা পানি আর মশার উৎপাতে এখানে বসবাস করা কষ্টকর। খাল পরিষ্কার না করলে বর্ষায় আরো সমস্যা সৃষ্টি হবে। তাই দ্রুত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
জামালপুর জেলা পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘শহরের পানিপ্রবাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খালটি ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। খাল পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব পৌরসভার। কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে মশা-মাছির বংশবিস্তার হচ্ছে
এবং রোগবালাই ছড়াচ্ছে।’
জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুল হক বলেন, ‘জমে থাকা নোংরা পানিতে মশার লার্ভা জন্ম নেয়, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। দূষিত পরিবেশে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ নানা রোগও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই দ্রুত খালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি।’
জামালপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, আবর্জনা অপসারণ এবং পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক দেশের প্রত্যয়। Web: www.desherprottoy.com / Gmail : desherprottoy@gmail.com / সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।