ফ্যামিলি কার্ড: স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা”—রাজবাড়ীর পাংশায় উপকারভোগীদের মাঝে কার্ড বিতরণের শুভ উদ্বোধ
রাজবাড়ী: সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে সরকারের নতুন উদ্যোগ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলায়। “ফ্যামিলি কার্ড, স্বপ্ন নয় বাস্তবতা”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) পাংশা উপজেলা চত্বরে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ফ্যামিলি কার্ড একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ হারুন অর-রশিদ। তারা সরকারের এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজবাড়ী জেলার মান্যবর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার। তিনি বলেন, দেশের ১৪টি নির্বাচিত উপজেলার মধ্যে পাংশা অন্যতম, যেখানে পরীক্ষামূলকভাবে এই ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ সরাসরি সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, পাংশা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রিফাতুল হক, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রধান অতিথি উপকারভোগীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এ সময় উপকারভোগীরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেশের নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা প্রদান সহজতর করা হবে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সেবা প্রাপ্তির গতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে, যা দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।