প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ৩, ২০২৬, ১০:২৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১২, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
ফেনীর বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯২ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত
ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে বোর্ড ফি আত্মসাতের ঘটনায় ৯২ জন শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য বিদ্যালয়ের ৯২ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বোর্ড ফি বাবদ ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়। ডিসেম্বরের শেষ দিকে ওই টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় স্কুলের অফিস সহকারী মিহির চন্দ্র শীলকে।তবে তিনি টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি দীর্ঘদিন অজানা থাকলেও সম্প্রতি ফেনীর অন্যান্য বিদ্যালয়ে প্রবেশপত্র পৌঁছালেও বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তা না পাওয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বোর্ড ফি জমা না হওয়ায় প্রবেশপত্র আটকে রয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, মোট ৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ১৪ জন, মানবিক বিভাগে ১৬ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৫ জন এবং ৩৭ জন অনিয়মিত শিক্ষার্থী রয়েছে।
আগামী ২১ এপ্রিল থেকে তাদের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা।
ঘটনাটি জানাজানি হলে শিক্ষকরা জরুরি বৈঠক করে কোচিং ফান্ড থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে বোর্ডে জমা দেওয়ার উদ্যোগ নেন। পরে প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখানে জরিমানাসহ ফি জমা দিলে প্রবেশপত্র দেওয়ার আশ্বাস পেলেও চূড়ান্ত সমাধান এখনো মেলেনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত অফিস সহকারী মিহির চন্দ্র শীল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এসব বিষয় গোপন রেখে তাকে নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে অফিস সহকারী মিহিরকে বোর্ড ফি পরিশোধের জমা ভাউচারটি দিতে বলা হলে সেটি সে খুঁজে পাচ্ছে না বলে আমাকে জানায়। কিন্তু সে টাকা জমা দেয়নি—এমনটা আমরা ভাবিনি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে দেখা করি। তিনি জরিমানাসহ বোর্ড ফি জমা দিলে প্রবেশপত্রের ব্যবস্থা করবেন বলে আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করি, একটু দেরি হলেও বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।’
স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরীন কান্তা জানান, এসএসসি পরীক্ষার বোর্ড ফি জমা হয়নি, এমন তথ্য প্রধান শিক্ষক তাকে জানাননি। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানতে পেরে প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রবেশপত্র যথাসময়ে না পৌঁছলে এর দায়ভার প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের ওপর বর্তাবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষককে ব্যাখ্যা তলব করা হবে।’
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক দেশের প্রত্যয়। Web: www.desherprottoy.com / Gmail : desherprottoy@gmail.com / সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।