ফরিদপুরে একই সম্পত্তি নিয়ে বারবার মামলা, হয়রানির অভিযোগ: প্রতিকার চান জরিনা সহ সকল ভুক্তভোগী পরিবার।
নাজমুল হুদা বাশার, ফরিদপুর:
ফরিদপুর সদর উপজেলার রঘনন্দপুর গ্রামের হাবিব শেখের ক্রয়কৃত ও বৈধ সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা-মোকদ্দমার মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একই সম্পত্তি নিয়ে বারবার আদালতে মামলা করে তাদেরকে অযথা হয়রানির শিকার করা হচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এর আগে মোঃ সোবান মোল্লা বাদী হয়ে জরিনা বেগম গং-এর বিরুদ্ধে ফরিদপুর সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা নং-২৭৫/১৯ দায়ের করেন। পরে ৩১ আগস্ট ২০২১ তারিখে আদেশ নং-৮৯-এর মাধ্যমে আদালত মামলার রায় বাদীর বিপক্ষে প্রদান করেন।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্বের মামলায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পর একই সম্পত্তি নিয়ে পুনরায় ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ফরিদপুর সিনিয়র জজ আদালতে মামলা নং-৪৪৫/২৬ দায়ের করা হয়। মামলাটির বাদী হন সোবান মোল্লার চাচাতো ভাই মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বিষয়টি আপস-মীমাংসার লক্ষ্যে ২৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওয়াহিদুজ্জামান নির্ধারিত সময়ে সালিশে উপস্থিত হননি। পরে সালিশে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিরা চলে যাওয়ার সময় তিনি নতুন মামলার কাগজপত্র প্রদর্শন করেন।
এ বিষয়ে জরিনা গং-এর দাবি, একই সম্পত্তি নিয়ে বারবার মামলা দায়ের করে তাদের আর্থিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা এ ধরনের হয়রানি বন্ধে আদালত ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, "আমার বাবা জীবিত থাকাকালীন তাদের কাছে জমি বিক্রি করেছিলেন। আমার বাবা ২০১০ সালে মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর আমার চাচাতো ভাই মোঃ সোবান মোল্লা জরিনা বেগম গং-এর বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলা করেছিলেন। সেই মামলায় তিনি পরাজিত হওয়ার পর আমি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে রেকর্ড সংশোধনের জন্য নতুন মামলা দায়ের করেছি। আদালত যে রায় দেবেন, আমরা তা মেনে নেব।"
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এ বিরোধের অবসান ঘটবে এবং উভয় পক্ষের জন্য একটি স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত হবে।