প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০ নির্দেশনায় এবারের ঈদ ব্যবস্থাপনায় ‘দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন’ এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
আজ সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
মাহদী আমিন বলেন, ‘এবারের ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সরকারের কার্যক্রমে ১০টি গণমুখী বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বিঘ্নে ঈদযাত্রা নিশ্চিতকরণ, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, দেশীয় পশুর বাজার সুরক্ষা, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট দমন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চামড়া খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা ছিল প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম নির্দেশনা।’
তিনি বলেন, ‘এসব উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়ন ঈদ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সেবাকে আরো জনসম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এই কর্মযজ্ঞকে পাথেয় করে গণমানুষের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা এবং সুশাসনের এই ধারাকে টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই হবে বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।জনকল্যাণের সেই আন্তরিক অগ্রযাত্রায় গণতান্ত্রিক সরকারের সাফল্য অনিবার্য, ইনশাআল্লাহ।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ১৬ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় ও ধ্বংসস্তূপ মাত্র তিন মাসে সম্পূর্ণরূপে দূর করা সম্ভব নয়—এই কঠিন বাস্তবতা দেশবাসী অনুধাবন করে। তবু দীর্ঘদিনের দুঃশাসনে ক্লান্ত জনগণ এবার ঈদে উপলব্ধি করেছে যে রাষ্ট্র তাদের প্রতি সংবেদনশীল এবং প্রশাসন কেবল ক্ষমতার কেন্দ্র নয়, বরং জনসেবার কার্যকর ও দায়িত্বশীল মাধ্যম।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত প্রথম এই ঈদুল আজহা উদযাপনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকারের সকল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা, সংসদ সদস্যসহ সর্বমহলে আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতা ছিল সর্বোচ্চ, যা নিকট রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা।
তবু কোথাও কোনো প্রশাসনিক ঘাটতি বা সমন্বয়হীনতা পরিলক্ষিত হলে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিরসনে সরকার সর্বদা সচেষ্ট ও আন্তরিক।’
ঈদুল আজহায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত ও গণমুখী উদ্যোগের বিষয়াবলি জানাতে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবিরামভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তার অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের উন্নয়নের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ভালো কাজগুলো করার জন্য সব সময় সচেষ্ট রয়েছেন। আপনারা হয়তো দেখেছেন, সরকারি ছুটির দিনগুলোতে আমরা সবাই কম-বেশি ছুটি কাটিয়েছি, কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটি মুহূর্তও ঘরে বসে থাকেননি। তিনি প্রতিটি মুহূর্তই কাজ করেছেন।তিনি বলেন, ‘আমরা যারা তার খুব কাছে আছি এবং তার সঙ্গে কাজ করছি, তারা প্রতিনিয়তই দেখছি কখন কোথায় কী কী করতে হবে, সেটা তিনি সব সময় চিন্তা করছেন এবং তার প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন। ঈদের পরের দিন বর্জ্য অপসারণ হলো কি না, তা দেখতে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামকে নিয়ে নিজে গাড়ি চালিয়ে ঢাকার রাজপথের অলিগলিতে ঘুরে দেখেছেন। কোথায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়নি, কোথায় কার গাফিলতি ছিল—এসব বিষয়ে তিনি নিজে গাড়িতে বসে ফোন করেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য অপসারণ হয়েছে কি না, প্রধানমন্ত্রী তা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদারকি করেছেন। বাসায় বসেও তিনি ক্ষান্ত হননি। সেখান থেকে সংশ্লিষ্টদের ফোন করে বুঝিয়েছেন যে দেশটি সবার, নগরী পরিষ্কার রাখতে হবে।’
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘ডিজিটাল মিডিয়া ও ফেসবুকে ফটোকার্ড অথবা ছোট ভিডিও ক্লিপ নিমিষেই ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। আমরা যারা বড় বড় গণমাধ্যমে আছি, তারা না বুঝে, না শুনে অনেক সময় সেগুলো কপি করে ভাইরাল করে দিচ্ছি। এতে একজন মানুষের কতখানি ক্ষতি হবে, কিংবা একটি দল বা একটি দেশের কী ক্ষতি হবে’ সেগুলো আমরা চিন্তা করি না।’
তিনি বলেন, ‘আমার অনুরোধ থাকবে’ এ ধরনের কিছু প্রচার করার আগে অবশ্যই যার বিরুদ্ধে হোক, যাকে কেন্দ্র করে হোক, তার সঙ্গে কথা বলে সময় নিয়ে বিবেচনা করে সেগুলো প্রচার করা দরকার। না হলে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’
প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা-
১. দীর্ঘ ছুটি ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা :
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি ছুটি এক সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। ফলে সরকারি উদ্যোগেই পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ করতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ফলে ঈদের আগের দিনগুলোতে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে আসে। তবে সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি এবং অতীতের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনাপ্রাণহানি ঘটে। টাঙ্গাইলে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনা এবং ট্রেনের ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।
২. পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ :
তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের ঈদের আগে বকেয়া বেতন ও বোনাস নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যাংক, মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হয়। অধিকাংশ কারখানায় সময়মতো বেতন-ভাতা পরিশোধ সম্ভব হয় এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।
৩. দেশীয় পশুর বাজার ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ :
স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গবাদিপশু প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দেশজুড়ে কোরবানিযোগ্য পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ ছিল। প্রায় ১ কোটি ১ লাখ পশুর চাহিদার বিপরীতে ১ কোটি ২৩ লাখ পশু প্রস্তুত ছিল। ফলে কোরবানিতে পশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা নিশ্চিত হয়। তবে বাজারে চাহিদার তুলনায় পশুর সরবরাহ বেশি থাকায় কিছু প্রান্তিক খামারি প্রত্যাশিত মূল্য পাননি বলে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
৪. দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও নাগরিক সেবা :
ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের বড় বড় পৌরসভায় বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কোরবানির পর ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার অধিকাংশ এলাকার বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হয়, যা অতীতে কয়েক দিন সময় নিত।
ঈদের পরদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকি করেন। অবহেলার দায়ে তাঁর নির্দেশে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের একাধিক আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
৫. গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও বিশেষ সুবিধা :
ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কাউন্টারগুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ছিল। পাশাপাশি, প্রথমবারের মত রেলে এবং মেট্রোরেলে নারীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আলাদা সংরক্ষিত কোচ বা বগি চালু এবং প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত ভাড়ার ওপর বিশেষ ছাড় প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবারের ঈদ যাত্রায় কোনো ধরনেরvঅতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা ঘটেনি, বরং লঞ্চে সরকার নির্ধারিত ভাড়া রুট ভেদে ৫-৮% ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাস, লঞ্চসহ সকল যানহবনে ডিজিটাল বোর্ড, স্টিকারের মাধ্যমে ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান রাখা হয়েছে।
লঞ্চে হুইলচেয়ার ও ট্রলির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, লঞ্চঘাট রাখা হয়েছে সম্পূর্ণ কুলি ও হকারমুক্ত, মালামাল বহনের জন্য কোনো যাত্রীকে টাকা খরচ করতে হয়নি। বছিলা ও কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় নতুন লঞ্চঘাট স্থাপন করে সেখান থেকে নিয়মিত লঞ্চ ছাড়া হয়েছে, যার ফলে এলাকাভিত্তিকভাবে মানুষ এসব জায়গা থেকে যাত্রা করতে পেরেছে, সবাইকে সদরঘাটে যেতে হয়নি, এ ঘটনা সরকারের একটি অবিস্মরণীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ন্যায্য ভাড়া ও হয়রানিমুক্ত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের অভূতপূর্ব ভূমিকা জোরালো ও সাহসী ছিল বলে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন।
৬. চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটবিরোধী অভিযান :
পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ভূমিকা পালন করে। পশুর হাটে অবৈধ চাঁদা আদায়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়নি এবং সাধারণ ক্রেতারা তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে পশু কিনতে পেরেছেন বলে জানানো হয়।
৭. লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ :
ঈদের ছুটিতে শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের অধিকাংশ এলাকায় লোডশেডিং সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দুর্নীতির অভয়ারণ্য বিদ্যুৎখাতে গ্রাহক পর্যায়ে চাহিদা ও সরবরাহের সমন্বয়ের মাধ্যমে মৌসুমি দুর্যোগের ফলে যে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছিল, তা দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করেছে।
৮. সামাজিক সংবেদনশীলতা ও জননিরাপত্তা :
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কোরবানিসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হয়। ঈদুল আজহার দিন কিংবা ঈদকে কেন্দ্র করে উল্লেখযোগ্য কোনো সামাজিক সংঘাত বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেনি বলে দাবি করা হয়।৯. চামড়ার মূল্য নির্ধারণ ও তদারকি :
লবণের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট ভাঙতে কাঁচা চামড়ার ন্যূনতম মূল্য আগেভাগেই নির্ধারণ করা হয়। মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করায় চামড়া নষ্ট হওয়া বা অবিক্রিত থাকার হার আগের বছরের তুলনায় কমেছে বলে জানানো হয়।
১০. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা :
ঈদের আগে চাল, ডাল, মসলা, তেল, চিনিসহ কোরবানিসংক্রান্ত নিত্যপণ্যের বাজারে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ থাকা সত্ত্বেও খুচরা বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা, সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক খান ও আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার।