নরসিংদী শহরে একটি ফ্ল্যাটের জানালার গ্রিল কেটে নগদ ৫০ লাখ টাকা ও আট ভরি স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ উঠেছে। দুর্গাপূজার ছুটি শেষে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরে ফ্ল্যাটে এ অবস্থা দেখতে পায় ভুক্তভোগী পরিবার।
এ ঘটনায় ওই রাতেই নরসিংদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সুখন চৌধুরী।
ভুক্তভোগী সুখন চৌধুরী (৫১) নরসিংদী সদর উপজেলার শেখেরচরের ইভা ডাইংয়ে রং মাস্টার হিসেবে কাজ করেন। তিনি নেত্রকোনার বারহাট্টা থানার গুহিয়ালা গ্রামের মতীন্দ্র চৌধুরীর ছেলে। গত পাঁচ বছর ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নরসিংদী শহরের সেবাসংঘ এলাকার নরেশ চন্দ্র সাহার সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্বজনদের সঙ্গে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে গত রবিবার দুপুরে ফ্ল্যাটে তালা দিয়ে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার বারহাট্টার গুহিয়ালা গ্রামে যান তারা। পূজা শেষে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বাসায় ফিরে দেখেন, দরজা খুলতে পারছেন না। তালা কাটার পরও দরজা খুলতে না পারায় তাদের সন্দেহ হয়। পরে ফ্ল্যাটের পেছনে গিয়ে জানালার গ্রিল কাটা দেখতে পান সুখন চৌধুরী।
স্থানীয়দের সহায়তায় ওই জানালা দিয়ে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন তিনি। পরে দরজা খুলে ঘরের আসবাবপত্র ও জামাকাপড় এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। আলমারি ভাঙা এবং সেখানে রাখা আট ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫০ লাখ টাকা নেই।
সুখন চৌধুরী বলেন, ‘আমার ৩০ বছরের সঞ্চয় ও বাড়ির জমি বিক্রি করে পাওয়া ৫০ লাখ টাকা দিয়ে একটি ডাইং কারখানা করার জন্য টাকাগুলো বাসায় রেখেছিলাম। ডাইং কেনার কথাবার্তাও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল।
স্ত্রীর গহনাগুলোও আলমারিতে ছিল। গত ছয় দিন আমরা বাসায় না থাকার সুযোগে কোনো একসময় চোরেরা এসব নিয়ে গেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সারা জীবনের স্বপ্ন ছিল একটি ডাইং কারখানা করব। চোরেরা সেই স্বপ্নটাই চুরি করে নিয়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে সন্দেহও করতে পারছি না। পুলিশের কাছে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আমার টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন বলেন, ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।