রাজধানীর রাস্তায় প্রকাশ্যে খুন হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনের সঙ্গে ‘চমৎকার সম্পর্ক’ ছিল দাবি করে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। টিটনকে তিনি বন্ধু হিসেবে ভালোবাসতেন।
এক অডিও বার্তায় হেলাল দাবি করেন, স্থানীয় কিছু অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যম অপরাধচক্রের প্রভাবেই বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করছে। এতে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে তার নাম সামনে আনা হচ্ছে।
তার দাবি, তার কোনো কিশোর গ্যাং বা সন্ত্রাসী বাহিনী নেই; বরং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে সহজেই তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে।কালের কণ্ঠের হাতে আসা ওই অডিও পিচ্চি হেলালের কি না তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এমনকি অডিওটির অন্যপ্রান্তে থাকা ব্যক্তির পরিচয়ও জানা যায়নি।
অডিও বার্তায় পিচ্চি হেলালকে বলতে শোনা যায়, কোরবানির পশুর হাট সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে নানা ধরনের কথা বলা হয়েছে।
তবে পিচ্চি হেলাল দাবি করেন, সন্ত্রাসী জোসেফ বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় নন। বর্তমানে মিরপুর থেকে শুরু করে পুরো ঢাকা শহর নিয়ন্ত্রণ করছেন ইমন এবং তার ‘ফোরস্টার গ্রুপ’।
তিনি ইমনকে ‘সাইকো’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ইমনের চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। টিটনকে পথ থেকে সরিয়ে দিতে ইমন নিজের পারিবারিক সম্পর্ককেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন।পিচ্চি হেলাল নিজেকে নিরপরাধ দাবি করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘বিগত এক মাসে টিটনের সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। পুলিশ যদি টিটনের ফোন এবং তার ভাই রিপনের ফোনের কল লিস্ট ফরেনসিক পরীক্ষা করে, তবেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।’ তিনি আরো জানান, টিটন জীবদ্দশায় বিভিন্ন জায়গায় বলে গিয়েছিলেন যে, তার দুলাভাই ইমন তাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করছে।
তার দাবি অনুযায়ী, টিটনকে মারার পেছনে তার আপন বোন এবং ভগ্নিপতি ইমনের যৌথ পরিকল্পনা ছিল। ইমনের স্ত্রী (টিটনের বোন) এই খুনের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জানতেন কি না, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
ইমনের সন্ত্রাসী সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখতেই টিটনকে ‘টার্গেট’ করা হয়েছিল বলে বিশ্বাস হেলালের।মামলায় নিজের নাম আসা প্রসঙ্গে পিচ্চি হেলাল বলেন, এজাহারে টিটনের ভাই যাদের নাম দিয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে যে ছেলেটি কথা বলছিল, সে মূলত ইমন গ্রুপের সদস্য। ইমন অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তার নিজের লোকদের দিয়ে টিটনের পরিবারকে ভুল বুঝিয়ে এই মামলা করিয়েছেন, যেন প্রকৃত খুনিরা আড়ালে থাকে।