নীলফামারী শহরের প্রাণকেন্দ্রে বিস্তৃত এক খোলা সবুজ প্রান্তর—স্থানীয়দের কাছে যার পরিচয় “বড় মাঠ”। শহরের মানুষের সকাল-বিকেলের গল্প, অবসর কাটানোর ঠিকানা এবং স্বাস্থ্যচর্চার কেন্দ্র এই মাঠ।
একই সঙ্গে এটি তরুণদের মিলনমেলা ও নীলফামারীর সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মনে হয় যেন এই মাঠকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে পুরো নীলফামারী শহর। মাঠের চারপাশে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, লাইব্রেরি, শহীদ মিনার, মাঠের একপাশে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কাছেই নীলফামারী পৌরসভা, র্যাব ক্যাম্প, শিল্পকলা একাডেমি, শহীদ মিনার, ঈদগাহ ও মসজিদ। কিছুটা দূরে রয়েছে নীলফামারী সরকারি কলেজসহ আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পুরো এলাকাজুড়ে থাকে মানুষের সরব উপস্থিতি।
ভোরের আলো ফোটার আগেই নীলফামারীর বড় মাঠের দিন শুরু হয়ে যায়। ফজরের আজান শেষ হতেই ধীরে ধীরে মানুষ হাঁটতে হাঁটতে মাঠে আসতে শুরু করেন। কারও হাতে পানির বোতল, কেউ ট্র্যাকস্যুট পরে দ্রুত পায়ে হাঁটছেন।সকালের কোমল আলো, ঠাণ্ডা বাতাস আর খোলা আকাশের নিচে মাঠজুড়ে তৈরি হয় এক অন্যরকম প্রশান্ত পরিবেশ। কেউ ধীর পায়ে হাঁটছেন, কেউ দৌড়াচ্ছেন, কেউ আবার শরীরচর্চায় ব্যস্ত। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগে আক্রান্ত অনেক মানুষ নিয়মিত এখানে হাঁটতে ও ব্যায়াম করতে আসেন। মাঠের পাশে স্থাপন করা হয়েছে বিভিন্ন ব্যায়ামের সরঞ্জামও। তরুণ থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে সকালবেলার বড় মাঠ হয়ে ওঠে এক প্রাণবন্ত স্বাস্থ্যচর্চার কেন্দ্র।