নদীর ঘাটই যাদের জীবন: সিরাজগঞ্জের মতিন সাহেবের নৌকার ঘাটে শ্রমজীবীদের জীবন-সংগ্রাম
মোহাম্মদ ইনসাফ আলী | সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি |
*সিরাজগঞ্জ:* ভোরের আলো ফোটার আগেই ব্যস্ত হয়ে ওঠে সিরাজগঞ্জ সদরের মতিন সাহেবের নৌকার ঘাট। যমুনার শাখা নদীর ওপর দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ এ ঘাট দিয়েই নদীর ওপারে যাতায়াত করে। আর এই ঘাটকে ঘিরেই ঘোরে কয়েকশ শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা।
ঘাটে নামলেই চোখে পড়ে ভিন্ন ভিন্ন পেশার মানুষের ব্যস্ততা। কেউ মাথায় করে মালামাল বয়ে নিচ্ছেন, কেউ নৌকায় যাত্রী তুলছেন, কেউ আবার ছোট দোকান সাজিয়ে রুটি-রুজির চেষ্টা করছেন।
*ঘাটের শ্রমজীবীরা যেভাবে বাঁচেন*
*লেবার*: ভোর ৫টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ভারী বস্তা, ধান, সার, ইট নামানো-ওঠানোর কাজ করেন এরা। দিনশেষে মজুরি মেলে ৪০০-৫০০টাকা।
*কুলি*: যাত্রীদের মালপত্র নদী পাড়াপাড় করে দেন। একেক ট্রিপে ২০০-৫০০টাকা রোজগার।
*দোকানদার*: ঘাটের পাশে চা, বিস্কুট, পান-সিগারেটের ছোট দোকান। নদী পারের যাত্রীই তাদের প্রধান ক্রেতা।
*বাদামওয়ালা ও গোলওয়ালা*: নদীর পাড়ে বসে বাদাম, মুড়ি, গোল বিক্রি করেন। শিশু-কিশোররাই মূলত তাদের ক্রেতা।
*মাঝি*: নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। নদীতে ঢেউ বা বর্ষায় পানি বাড়লে তাদের আয়ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
ঘাটের পুরনো কুলি আব্দুল হামিদ বলেন, “এই ঘাটেই জন্ম, এই ঘাটেই জীবন। নদী ভালো থাকলে আমরাও ভালো থাকি। বৃষ্টি-ঝড় হলে রোজগার বন্ধ, ঘরে চুলা জ্বলে না।”
মাঝি রহমত আলী বলেন, “নৌকা আমাদের পেশা, নদী আমাদের জীবন। সরকার যদি ঘাটটা একটু পাকা করে দিত, যাত্রীদেরও সুবিধা হতো, আমরাও নিরাপদে কাজ করতে পারতাম।”
স্থানীয়রা জানান, মতিন সাহেবের ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ স্কুল-কলেজ, হাটবাজার ও কাজের জন্য নদীর ওপারে যায়। ঘাটটি সিরাজগঞ্জের গ্রামীণ জনপদের সঙ্গে শহরের সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
বর্ষা মৌসুমে নদী উত্তাল হলে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তবুও জীবিকার তাগিদে থেমে থাকে না এই ঘাটের জীবন।
শ্রমজীবী মানুষগুলোর চোখে ক্লান্তি আছে, কিন্তু বাঁচার আশাও আছে। নদীর ঢেউয়ের মতোই তাদের জীবনও চলে—উত্থান-পতনে, সংগ্রামে।