দ্বিগুণের বেশি বাড়ছে সরকারি বেতন, কত বছরে বাস্তবায়ন
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে সরকার। জাতীয় বেতন স্কেল (পে স্কেল)-২০২৬ অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে।
এ বেতন কাঠামো সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে।
গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন এই বেতন স্কেল অনুমোদন করা হয়।
বৈঠকে জাতীয় পে স্কেলের সঙ্গে মিল রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথ বাহিনী নির্দেশাবলি ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে, যা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ ও সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকার সেগুলোর ভিত্তিতে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সচিব কমিটি গঠন করেছিল।
সচিব কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদন মন্ত্রিসভার বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদসচিব ড. নাসিমুল গনি এসব তথ্য জানান।
জানা যায়, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। বেতন স্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক সংশ্লেষ ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব বিবেচনায় সরকার সম্পূর্ণ বেতন স্কেল একযোগে বাস্তবায়ন না করে চলতি ২০২৬-২৭ ও আগামী ২০২৭-২৮ এই দুই অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকার বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বল্প আয় বিবেচনায় দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর আওতায় ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং ভাতাসমূহ ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর হবে। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ধাপভিত্তিক নিট পেনশন বৃদ্ধি কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক কমিটি গঠিত হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেল অনুমোদন করা হবে, যা ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর মতো একই ভাবে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।
এভাবে পর্যায়ক্রমে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমন করা সম্ভব হবে।
নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্য যোগ্য সুবিধাভোগীরা উপকৃত হবেন। এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয়ের পরিমাণ আনুমানিক এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা, যার সংস্থান মিডিয়াম টার্ম বাজেট ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অর্থবছরসমূহের বাজেটে রাখা হয়েছে।
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে, যেখানে বেতন নির্ধারণ পদ্ধতি, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন ও অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিস্তারিত বিধান বর্ণিত থাকবে। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থাকে অনুমোদিত বেতন স্কেল যথাযথভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হবে।
নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক দায় তৈরি হবে। সরকারের হিসাবে নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা হবে।
এই ব্যয়ের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পেনশন ও অন্যান্য সুবিধার অতিরিক্ত ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার একদিকে কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা বাড়াতে চাইছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ওপর তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে।
সরকারের হিসাবে, নতুন বেতন স্কেল সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্যম বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।