পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় এবারও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে কোনো গরু আমদানি করা হচ্ছে না।
এমনকি চোরাই পথে আসা সীমান্ত পারের গরু দিয়ে কোরবানি না করার বিষয়েও সচেতন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, খামারিরা যাতে পশুর ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এবারের ঈদে দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই চাহিদার শতভাগ পূরণ সম্ভব।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু কোরবানি নয়, সারা বছরই ভোক্তারা যাতে তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে মাংস কিনতে পারেন, সে জন্য গবাদিপশুর খাদ্য উৎপাদন ব্যয় কমানোসহ গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে।
এবিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি গবাদিপশু রয়েছে। ফলে এবার ভারতীয় গরু ছাড়াই ঈদ উদযাপিত হতে যাচ্ছে। দেশীয় খামারিরা যাতে সহজ শর্তে ঋণ পান, সে বিষয়েও কাজ চলছে।খামারি, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রাণিসম্পদ খাত আরো এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, বাইরে থেকে যেন কোনো গবাদিপশু দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে নির্দেশনা দেওয়া আছে। এছাড়া এবার সীমান্ত এলাকায় কোনো পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়নি।
পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধ পথে আসা গরু না কেনার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী একটি বিশেষ বৈঠকের কথা জানান। তিনি বলেন, আলেম-ওলামাদের উপস্থিতিতে একটি সভায় আলোচনা হয়েছিল—হাসিল (হাটের খাজনা) না দিলে কোরবানি হবে না, এমন একটি ধারণা প্রচলিত আছে।
কিন্তু অবৈধভাবে অন্য কোনো দেশ থেকে আনা গরু দিয়ে কোরবানি হবে কি না, তা জানতে চাইলে উপস্থিত সব আলেম সমস্বরে বলেছিলেন, ‘কোরবানি হবে না’।