দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে থাকা রাজশাহী মহানগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনের নেতৃত্বে অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশক নিধন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও নাগরিক সেবায় নতুন গতি ফিরেছে। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে নগরজুড়ে উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।
গত ১৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাসিকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। ১৬ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেন।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে রাসিকের ১ হাজার ২৩৭ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ঈদ শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ৫ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়। এই উদ্যোগ নগরজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
নগর ভবনে ফিরেছে শৃঙ্খলা
প্রশাসকের উদ্যোগে নগর ভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। সকাল ৯টার আগেই প্রশাসকের উপস্থিতি ও নিয়মিত সমন্বয় সভার মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রমে গতি এসেছে। নাগরিক সেবা দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করতে বিভিন্ন বিভাগকে কার্যকর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ড্রেন পরিষ্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বিশেষ অভিযান
আগামী বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার ও কাদামাটি অপসারণে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর পর রাজশাহী কমিউনিটি সেন্টার থেকে লিলি হল মোড় পর্যন্ত ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা প্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে রাসিক।
মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার
নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে চলছে ১৫ দিনব্যাপী ফগার স্প্রে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম। ড্রেনে লার্ভিসাইড স্প্রে, ময়লা অপসারণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। নতুন ফগার মেশিন ও কীটনাশক ক্রয়ের প্রক্রিয়াও চলছে।
থমকে থাকা উন্নয়ন কাজে ফিরেছে গতি
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প আবারও সচল হয়েছে। হেতেমখাঁ বড় মসজিদ মোড় থেকে বর্ণালী পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। এছাড়া রেলক্রসিং ফ্লাইওভার, শালবাগান, ভদ্রা ও নওদাপাড়া কাঁচাবাজার মার্কেট নির্মাণ কাজেও এসেছে গতি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, ফুলতলা ফোরলেন সড়ক, কমিউনিটি সেন্টার, কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার উন্নয়ন কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।
নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে নতুন পরিকল্পনা
রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানাকে আধুনিক বিনোদনকেন্দ্রে রূপ দিতে ওয়াচ টাওয়ার, চিলড্রেন প্লে-জোন, ঝুলন্ত ব্রিজ ও ইভেন্ট টেন্ট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গুলজারবাগ ও ভদ্রা লেকে দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা স্থাপনের উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।
নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা
নগরবাসীর অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছে রাসিক প্রশাসন। গোরহাঙ্গা রেলক্রসিং এলাকায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সড়ক উন্মুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে পড়ে থাকা নির্মাণসামগ্রী অপসারণ ও যান চলাচল স্বাভাবিক করতে নেওয়া হয়েছে কার্যকর পদক্ষেপ।
হাম-রুবেলা টিকাদানে শতভাগ সাফল্য
শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধে রাসিকের উদ্যোগে ৪৩৮টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। প্রায় ৮০ হাজার সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হয়েছে।
সবুজায়নে তিন লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা
নগরীর পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিসরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে তিন লাখের বেশি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে রাসিক।
রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “রাজশাহী মহানগরীকে আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপ দিতে নিরলসভাবে কাজ করছি। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”