তীব্র গরমে ঝালকাঠিতে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং, চরম দুর্ভোগে জনজীব
চাহিদা ৮ দশমিক ৫ মেগাওয়াট, সরবরাহ মাত্র ৬ মেগাওয়াট; বিদ্যুতের পাশাপাশি ব্যাহত পানি সরবরাহ, দ্রুত সমাধানের দাবি
শংকর দাস পবন, সহঃবার্তা সম্পাদক
তীব্র গরমের মধ্যে ঝালকাঠিতে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পানি সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটছে, ফলে নাগরিক ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে শহর ও আশপাশের এলাকায় ঘনঘন লোডশেডিং চলছে। এতে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি এবং শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রচণ্ড গরমে রাতের ঘুম ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
দোকানদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। ছোট কারখানা, কর্মশালা এবং বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। তাঁদের দাবি, বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনিয়মের অভিযোগ তুলে সম্প্রতি ঝালকাঠি শহরে গ্রাহকেরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে, তা সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। বরাদ্দের ঘাটতির কারণে লোডশেডিং পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
গত (২ আগস্ট) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, ওজোপাডিকো ঝালকাঠির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় জানানো হয়, বর্তমানে ঝালকাঠিতে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৮ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বরিশাল অঞ্চল থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এই ঘাটতির কারণেই লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিদ্যুতের বরাদ্দ বৃদ্ধি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।