প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ১৬, ২০২৬, ১২:৪১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৮, ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ
তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর হওয়া উচিত : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
জনস্বাস্থ্যকে পাশ কাটিয়ে একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়, তাই অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।রবিবার (৮ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর, বিশ্বস্বাস্থ্য অণুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ আলী আকবর আশরাফী ।ড. এম এ মুহিত বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুহার কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তবে আমরা যদি সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এটিকে আইনে পরিণত না করি, তাহলে অধ্যাদেশটি এর কার্যকারীতা হারাবে। তাই জনস্বাস্থ্যের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই অনুমোদিত অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তর করা জরুরি।’
তাহসিনা রুশদীর বলেন, ‘তামাকের ক্ষতি কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫-এর তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে ১১ শতাংশেরও বেশি নারী মৃত্যুবরণ করে তামাকজনিত রোগে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইন রূপান্তরের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।’শেখ মোমেনা মনি বলেন, ‘তামাক খাত থেকে সরকার বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও, চিকিৎসা ব্যয়, কর্মক্ষমতা হ্রাস ও অকাল মৃত্যুর কারণে এই খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই বিপুল ক্ষতি ও প্রাণহানি রোধের লক্ষ্যে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের দৃঢ় অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। নবনির্বাচিত সরকারকেও এই অবস্থান ধরে রেখে আইনের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।
’অধ্যাপক ডা. শাহ আলী আকবর আশরাফী বলেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি অনুমোদন করেছে, যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এখন এই অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করার দায়িত্ব নবনির্বাচিত সরকারের। কেননা যে দলটি এখন সরকার গঠন করেছে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তারা এ বিষয়ে অঙ্গীকারও করেছিলো। তাই নির্বাচনী অঙ্গীকার রক্ষা করতে অধ্যাদেশটি পাস করে আইনে পরিণত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলির সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নারী মৈত্রীর সভাপতি মাসুমা আলম, নারী মৈত্রী তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরাম, শিক্ষক ফোরাম, সাংবাদিক ফোরাম, ইয়ুথ ফোরাম এবং বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক দেশের প্রত্যয়। Web: www.desherprottoy.com / Gmail : desherprottoy@gmail.com / সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।