সৌরশক্তিতে বদলে যাচ্ছে কৃষি, কমছে সেচ খরচ
খরচ কম ও বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় ঝিনাইদহের অনেক কৃষক এখন সৌর শক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। সম্প্রতি সদর উপজেলার একটি ফুলক্ষেতে। ছবি: সংগৃহীত
নিজের জমিতে ফুল চাষ করেন কৃষক হাবিবুর। আগে জমিতে সেচ দিতেন ডিজেলচালিত ব্যবস্থায়।
তবে এবার সেই ব্যবস্থা পরিবর্তন করেছেন। এক লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ করে জমিতে সোলার পাম্প বসিয়েছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার এই কৃষক।
শুধু হাবিবুর রহমান নন, জেলার অনেক কৃষক এখন সৌর শক্তিনির্ভর সেচব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন। এ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা দেখছেন তারা।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সোলার পাম্প বসানোর মাধ্যমে সেচ খরচ কমানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে তাদের।
এদিকে সোলার পাম্প বসানোর ক্ষেত্রে অনেক কৃষককে অনুদান দিচ্ছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরআরএফ। সংস্থাটির ‘স্মার্ট’ প্রকল্প থেকে ৪৫ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছেন বলে জানান কৃষক হাবিবুর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় এরইমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প বসানো হয়েছে।
এগুলো হলো সদর উপজেলায় তিনটি, কোটচাঁদপুরে একটি এবং মহেশপুরে ৩২টি। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য এলাকায়ও সোলার পাম্প বসানো কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন (আরআরএফ)-এর বাস্তবায়নাধীন ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের আওতায় বসানো হচ্ছে এসব সৌর বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প।
সোলার পাম্প ব্যবহারকারী কৃষকরা বলছেন, প্রচলিত ডিজেলচালিত সেচব্যবস্থার তুলনায় সৌর বিদ্যুৎচালিত পাম্পে পরিচালন ব্যয় কম। এতে নিজেদের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি অন্য কৃষকের জমিতে সেচ দিয়ে বাড়তি উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষ করে মহেশপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় ফুলচাষীদের জন্য এ উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।
মহেশপুরের কৃষক সাদিকুল রহমান বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় আরআরএফ প্রথমবারের মতো ফুলচাষীদের নিয়ে কাজ করছে। প্রকল্পের ঋণ ও অনুদানের মাধ্যমে সোলার পাম্প স্থাপন করেছেন তিনি। নিজের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি অন্য ১৫ বিঘা জমিতেও সেচ দিচ্ছেন।
ফুলচাষী গফুর মিয়া বলেন, সোলার পাম্প স্থাপনের পর তার তেল ও বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে না। নিজের জমির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি উপার্জন করতে পারছেন তিনি।
আরআরএফের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ ড. অসিত বরণ মণ্ডল বলেন, পিকেএসএফের সহায়তায় ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে এরইমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প বসানো হয়েছে। সামনে আরো ১০০টির বেশি পাম্প বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এই কৃষিবিদের ভাষ্য, ‘আগে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হতো। এখন সোলার পাম্পে খরচ হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকা। এতে সেচ খরচ কমার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও কমবে।’