ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে। নিজেদের পক্ষে ভোট টানতে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। বিশেষ করে আওয়ামী ভোটারদের সমর্থন পেতে অধিকাংশ প্রার্থী সরব।
আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের জুলুম করা যাবে না বলে বিভিন্ন সমাবেশে বক্তব্যও দিচ্ছেন তাঁরা।
জানা গেছে, ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক অ্যার্টনি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করছেন। সম্প্রতি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী ভোটারদের সমর্থন পেতে প্রকাশ্যে দলটির পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন।
নির্বাচনী সভায় আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আওয়ামী লীগে যেমন খুনি রয়েছে, তেমনি অনেক আদর্শিক সৈনিকও রয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। আমি তখন অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলাম, তখন সেটা আমি হতে দিইনি।’
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তিনিও নির্বাচনী প্রচারণায় কৌশলে আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তিনি বলছেন, ‘আওয়ামী লীগের নিরীহ ও সাধারণ কাউকে যেন জুলুম করা না হয়, অত্যাচার না করা হয়। ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে কথা বলছেন তিনি।
এ ছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীরাও আওয়ামী লীগের ভোট টানতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলটির নেতাকর্মীরা আওয়ামী ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা বলছেন।
অপরদিকে, ঝিনাইদহ-২ ও ঝিনাইদহ-৪ আসনে প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকরা আওয়ামী ভোটারদের কাছে টানতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগের সবাই স্বৈরাচার ছিলেন না। তাই তাদের নিরীহ কর্মী-সমর্থকদের জুলুম করা যাবে না। তাদের ভোট আমাদের পক্ষেই আসবে।
ঝিনাইদহ-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু ছালেহ মো. মতিয়ার রহমান বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাচ্ছি। সেইসঙ্গে তাদের নিরাপত্তার কথা বলছি। আশা করছি তারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আমাদের ভোট দেবেন।
জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবারের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কার্যত নির্বাচনী মাঠে নেই। ঝিনাইদহের সবকটি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে। এ কারণে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা কৌশলে আওয়ামী লীগের ভোটার টানার চেষ্টা করছেন। কোনো কোনো প্রার্থী আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ভোটারদের নিরাপদে রাখার আশ্বাস দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ভোট না দিলে সমস্যা হবে বলে ভয়ভীতিও দেখাচ্ছেন, যা ভোটের রাজনীতির একটি অংশ হয়ে উঠেছে। তবে আওয়ামী লীগের ভোট কোন প্রার্থীরা পাবেন, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
আনোয়ারুজ্জামান আরো বলেন, ‘ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীরা একে অপরের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। অনেককে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, যা নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি আরো বাড়াতে হবে।’
ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে জেলার চারটি আসনে ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে নারী ভোটার আট লাখ ৯৫ হাজার ৯৮৪ জন, পুরুষ ভোটার আট লাখ ৩৯০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২৯ জন।