রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পাঁচ দফা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও স্থানীয়দের সময়োপযোগী প্রস্তাবনা বলে মন্তব্য করেছেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি প্রধানমন্ত্রীর এই পাঁচ দফার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
শাহজাহান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তার বিষয়টি পাঁচ দফা প্রস্তাবে তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উখিয়া-টেকনাফের মানুষ রোহিঙ্গা সংকটের চাপ বহন করে আসছে। মানবিক কারণে সহযোগিতা করলেও সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় স্থানীয় জনগণের জীবন, পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর ওপর চাপ বেড়েছে।
তাই রোহিঙ্গাদের সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা চেয়ে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব প্রস্তাব দেন।
প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দফা প্রস্তাবের প্রথমটিতে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়।
দ্বিতীয়টিতে, রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি। তার মতে, প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হলে টেকসই সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়া কঠিন।
তৃতীয় প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ফলে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিও আন্তর্জাতিক সহায়তার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
চতুর্থত, টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
পঞ্চম প্রস্তাবে মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্রসহ বিভিন্ন আন্তসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সঙ্গে এবং অধিকার সুরক্ষিত রেখে তারা যেন মিয়ানমারে নিজভূমিতে ফিরে যেতে পারে, সেটিই বাংলাদেশের প্রত্যাশা।
এ জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি হলে বাংলাদেশ প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।