চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে ১৫ মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. আবুল কাশেম ওরফে নলা কাশেমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং ৬ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুরে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্র পুনরায় আধিপত্য বিস্তার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।কাশেমের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি দল এ চেষ্টা করছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. রাসেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘ প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামের ক্রাইম জোন খ্যাত জঙ্গল সলিমপুরকে সাধারণ মানুষের বসবাসের উপযোগী ও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে সম্প্রতি নলা কাশেমের নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্র এলাকাটিতে পুনরায় আধিপত্য বিস্তার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘বুধবার রাত নয়টার দিকে সন্ত্রাসীরা কাশেমের নেতৃত্বে জঙ্গল সলিমপুরে অনুপ্রবেশ করছে—এমন গোপন তথ্য পায় সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ।এরপর সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের একটি টিম দক্ষিণ সলিমপুর এলাকায় অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশ সন্ত্রাসীদের আস্তানাটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।’
এ সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী নলা কাশেমকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তার অন্য সহযোগীরা গভীর জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যান।
মো. আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে র্যাব হত্যা, ডাকাতি ও দস্যুতা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র আইন, হত্যাসহ সর্বমোট ১৫টি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।’চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন জানান, জঙ্গল সলিমপুরকে স্থায়ীভাবে সন্ত্রাসমুক্ত এবং সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ রাখতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এবং অপরাধীদের শিকড় উপড়ে ফেলতে এই জিরো টলারেন্স নীতি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।অপরাধী যে-ই হোক না কেন, কোনোভাবেই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।