গোদাগাড়ীতে সাড়ে ছয়শ বস্তা অনুমোদনহীন সার জব্দ
ক্রাইম রিপোর্টার রাজশাহী, মো:আতিকুর রহমান
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের দুধাই গ্রামে অভিযান চালিয়ে অনুমোদনহীন প্রায় ৭০০ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। অভিযানে একটি গোডাউন থেকে প্রায় ৫৫০ বস্তা এবং পাশের আরেকটি গোডাউন থেকে আরও ১৪৮ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সারের একটি অংশ তাৎক্ষণিকভাবে কৃষকদের মাঝে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মোহনপুর ইউনিয়নের দুধাই গ্রামের মেসার্স এমদাদুল ট্রেডার্সের গোডাউনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেসার্স এমদাদুল ট্রেডার্সের গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় গোডাউনে মজুত থাকা অনুমোদনহীন আনুমানিক ৫৫০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সারের মধ্যে ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি সার রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযানের সময় মেসার্স এমদাদুল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারীকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তিনি পলাতক থাকায় জব্দ করা সার দীর্ঘ সময় গোডাউনে রেখে না দিয়ে স্থানীয় কৃষকদের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, একই এলাকার পাশের আরেকটি গোডাউনেও অভিযান চালিয়ে আরও ১৪৮ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। কৃষকদের কাছে সুষ্ঠুভাবে সরকারি মূল্যে সার বিক্রির লক্ষ্যে উদ্ধারকৃত এসব সার মোহনপুর ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মেসার্স খাইরুল ট্রেডার্সের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই সার বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সার মৌসুমে অনুমোদনহীনভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হলে কৃষকদের বাড়তি দামে সার কিনতে বাধ্য হতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন প্রান্তিক কৃষকরা। প্রশাসনের এই অভিযানের ফলে জব্দ করা সার সরকারি মূল্যে কৃষকদের হাতে পৌঁছানোয় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
ভ্রাম্যমাণ এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইসরাত জাহান এবং উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদ। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার মজুত, বিক্রি ও বিতরণের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম-কানুন মেনে চলার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষকদের স্বার্থে সার বাজারে কৃত্রিম সংকট, অনুমোদনহীন মজুত ও অবৈধভাবে সার বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি মূল্যে কৃষকরা যাতে প্রয়োজনীয় সার পেতে পারেন, সে বিষয়েও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, সময়মতো এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হলে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে সার মজুত করে বাজারে সংকট সৃষ্টি করার সুযোগ পাবে না। তারা কৃষকের স্বার্থে নিয়মিতভাবে বাজার ও সার গোডাউনগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।