গোদাগাড়ীতে অবৈধ সার মজুদ, দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
ক্রাইম রিপোর্টার রাজশাহী, মোঃ আতিকুর রহমান
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় অনুমোদনহীন সার অবৈধভাবে মজুদ ও বিক্রির অভিযোগে পৃথক অভিযান চালিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অভিযানকালে মোট ৬১ বস্তা অনুমোদনহীন সার জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইসরাত জাহান। কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, সারের কৃত্রিম সংকট ও অবৈধ মজুদ ঠেকাতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযানের শুরুতে দেওপাড়া ইউনিয়নের পালপুর এলাকায় অবস্থিত মেসার্স রহিম এন্টারপ্রাইজের গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় গোডাউন পরিদর্শন করে ২২ বস্তা অনুমোদনহীন এমওপি সার পাওয়া যায়। অনুমোদন ছাড়া সার মজুদ ও বিক্রির অভিযোগে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পরে জব্দ করা ২২ বস্তা সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
এরপর একই ইউনিয়নের কদমশহর এলাকায় অবস্থিত কীটনাশকের দোকান মেসার্স সাজ এগ্রো বিজনেসে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে অনুমোদনহীন আরও ৩৯ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকেও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে জব্দ করা ৩৯ বস্তা সারও সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
এদিকে, অবৈধ সার মজুদ ও বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযানের ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৯ আগস্ট) সার সংক্রান্ত একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনহীন সার মজুদ, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি রোধে নিয়মিতভাবে নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হবে। অনুমোদনহীন সার মজুদ বা বিক্রির সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় কৃষকদের স্বার্থে সারের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।