বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বজ্রাঘাতের ঘটনায় এক শিক্ষকসহ অন্তত ১৬ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে চরএককরিয়া ও আলীমাবাদ ইউনিয়নের দুই বিদ্যালয়ে এসব ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, চরএককরিয়া ইউনিয়নের দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুপুর সোয়া ২টার দিকে আচমকা বজ্রপাত হয়। বিকট শব্দে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় ক্লাসরুম।
আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা ফারুকুল ইসলামসহ আট শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে কয়েকজন সাময়িকভাবে জ্ঞান হারান।
বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার মৌ জানায়, দুপুরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল।
হঠাৎ বিকট শব্দে মনে হলো স্কুলের ওপরেই বজ্রপাত হয়েছে। আমরা ভয় পেয়ে যাই। এরপর কিছু মনে নেই।আহতদের মধ্যে রয়েছেন সপ্তম শ্রেণির জান্নাত বেগম, ফাতেমা বেগম দোলা, আমেনা বেগম, সুমাইয়া বেগম, অষ্টম শ্রেণির মীম আক্তার এবং নবম শ্রেণির আফরোজা আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার।
তাদের উদ্ধার করে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার রাতেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ক্লাস চলাকালে হঠাৎ বজ্রপাতের শব্দে পুরো ভবন কেঁপে ওঠে। শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। কয়েকজন জ্ঞান হারায়।
পরে দ্রুত তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
একই সময়ে আলীমাবাদ ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও বজ্রপাতের ঘটনায় আরো আট শিক্ষার্থী আহত হয়। অভিভাবক বাহাদুর মৃধা বলেন, বজ্রপাতের শব্দে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন ফকির বলেন, বজ্রপাতের বিকট শব্দেই শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তারা সুস্থ হয়েছে।
মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আব্দুল কাদের বলেন, এক শিক্ষকসহ আটজন চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। কারো অবস্থা গুরুতর নয়। পর্যবেক্ষণের পর সন্ধ্যায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে গেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়গুলোকে আরো সতর্ক থাকতে হবে।