আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে জমে উঠতে শুরু করেছে কেনাবেচা ও দর্শনার্থীদের ভিড়। প্রতি বছরের মতো এবারও বড় আকৃতির গরু-মহিষের পাশাপাশি ব্যতিক্রমী নামের পশু ঘিরে বাড়ছে কৌতূহল।
তবে সব আলোচনাকে ছাপিয়ে এবার রাজধানীর কমলাপুর বালুর মাঠের হাটে সবার নজর কেড়েছে বিরল গোলাপি রঙের একটি মহিষ— যার নাম রাখা হয়েছে উত্তর কোরিয়ার নেতা ‘কিম জং উন’র নামানুসারে ‘কিম জং উন’।
কিছুদিন আগেই নারায়ণগঞ্জে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের একটি বিরল অ্যালবিনো মহিষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ঢাকার কোরবানির হাটে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এই ‘কিম জং উন’। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অসংখ্য মানুষ শুধু একনজর দেখতে ভিড় করছেন মহিষটির সামনে।
অনেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, ফলে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ছে মহিষটির বিভিন্ন ভিডিও।ব্যতিক্রমধর্মী এই মহিষটির মালিক নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার খামারি সোহান। তিনি জানান, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপায়ে মহিষটিকে লালন-পালন করা হয়েছে। বর্তমানে এটি রাজধানীর কমলাপুর বালুর মাঠে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারের উত্তর পাশে কোরবানির পশুর হাটে বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে।
খামারি সোহান বলেন,‘মহিষটিকে কোনো ধরনের স্টেরয়েড বা মোটাতাজাকরণ ওষুধ খাওয়ানো হয়নি। নিয়মিত গোসল করানো, পরিচর্যা ও প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমেই বড় করা হয়েছে।’
তিনি জানান, মহিষটির প্রধান খাদ্য ছিল কাঁচা ঘাস, খড়, ধানের তুষ, ভাঙা ভুট্টা ও গমের ভুসি।
খামারির দাবি, মহিষটির ওজন প্রায় সাড়ে নয় মণ। বিশাল গড়ন, রাজকীয় চাহনি এবং ব্যতিক্রমী রঙের কারণেই এর নাম রাখা হয়েছে ‘কিম জং উন’।
সাধারণ মহিষের মতো কালো নয়, বরং সম্পূর্ণ সাদাটে-গোলাপি বা অ্যালবিনো রঙের হওয়ায় এটি হাটে আসা মানুষের দৃষ্টি সহজেই আকর্ষণ করছে।
দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে খামারি জানান, মহিষটির মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। তবে সাড়ে চার লাখ টাকার কাছাকাছি ভালো দাম পেলেও তিনি বিক্রি করতে রাজি আছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘অনেকেই দাম জিজ্ঞেস করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দরদামের ভিত্তিতেই বিক্রি হবে।’কমলাপুর বালুর মাঠ, ব্রাদার্স ক্লাব সংলগ্ন এলাকা, উটের খামার এলাকা, কালভার্ট রোড ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনের অংশজুড়ে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আনা পশুতে হাট ভরে উঠেছে। ছোট, মাঝারি ও বড়— সব ধরনের গরু-মহিষ পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। তিন লাখ থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত দামের পশুও রয়েছে সেখানে।
যদিও এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি বেচাকেনা, তবুও দর্শনার্থীদের কৌতূহলে সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো হাট এলাকা।
চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী ইদ্রিস ব্যাপারী বলেন, ‘এখন মানুষ মূলত হাট ঘুরে দেখছেন ও দাম যাচাই করছেন। ঈদের এক-দুই দিন আগে থেকেই আসল বেচাকেনা শুরু হবে। ঢাকায় অনেকের পশু রাখার জায়গা নেই, তাই তারা শেষ মুহূর্তে গরু কেনেন।’
এর আগে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকার একটি খামারে ব্যতিক্রমী অ্যালবিনো মহিষের নাম রাখা হয়েছিল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। গোলাপি রঙ, বড় চুল ও আলাদা গড়নের কারণে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের সেই মহিষ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে।
এদিকে পিরোজপুরেও কোরবানির বাজার মাতাতে প্রস্তুত করা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ ও ‘লালু’ নামের দুটি বিশাল আকৃতির গরু। খামারিরা জানান, পশুর ভিন্নতা ও মজার নামকরণ ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আকর্ষণ আরো বাড়িয়ে দেয়।
কোরবানির হাটে এমন ব্যতিক্রমী পশু এখন শুধু কেনাবেচার বিষয় নয়, বরং বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার বড় অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ‘কিম জং উন’ নামের গোলাপি মহিষটি এবার ঈদের হাটে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে বলেই মনে করছেন দর্শনার্থীরা।