তিনি বলেন, ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। খাল ও নদী খননের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বাড়বে। কৃষিতে সহায়ক হবে।
আগামী ৫ বছরে দেশের ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, মানুষের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, এরমধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ ছিল। বিশ্বাস করি, কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। যেসব কৃষকের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণ ছিল, আমরা প্রথম সপ্তাহে তা মওকুফ করেছি।
বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ কৃষক এ সুবিধা পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আরও ১০টি উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পহেলা বৈশাখ কৃষক ভাই-বোনদের সঙ্গে জড়িত। এ লক্ষ্যেই কৃষক কার্ড উদ্বোধনের জন্য এ দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। খাল ও নদী খননের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বাড়বে। কৃষিতে সহায়ক হবে।
তারেক রহমান বলেন, কৃষিনির্ভর এলাকায় কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত কলকারখানা গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।যাতে কৃষকরা আরো দাম পেতে পারেন। কৃষিপণ্যের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সোমবার বসেছিলাম। বিভিন্ন দেশ এবং দেশীয় ব্যবসায়ীরা কোল্ড স্টরেজ তৈরিতে আগ্রহী। এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে।
টাঙ্গাইলের আনারসের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিজন ফুরিয়ে গেলে অনেক সময় কৃষকরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পান না। আমরা পরিকল্পনা করছি প্রতিটি অঞ্চলে কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার নির্মাণের। এ ছাড়া কৃষিজাত পণ্য বিদেশের বাজারে রপ্তানি করার জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে কৃষক লাভবান হবে, অন্যদিকে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে।
নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করার প্রসঙ্গ টেনে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে স্বাবলম্বী করার
গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবারের নারী প্রধানদের জন্য সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে। কৃষকের পাশাপাশি মা-বোনদের জীবনমান উন্নয়নেও সরকার বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি যতবার দেশ পরিচালনা করেছে, চেষ্টা করেছে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর। আপনাদের এই আস্থার মূল্য দেবে বিএনপি সরকার। সবাইকে দেশ গঠনের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এখন দেশ গড়ার সময়। এই সরকার জনগণের সরকার। লক্ষ্য দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন, দেশের উন্নয়ন। সবাই নিজের দেশকে ভালো দেখতে চায়। আমরা সেই লক্ষ্য অর্জন করতে চাই। এর জন্য জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। বাকিরা কোনো না কোনোভাবে সম্পর্কিত। প্রধান পেশা কৃষি। বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে, কৃষক ভালো থাকলে
বাংলাদেশ ভালো থাকবে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কৃষককে আত্মনির্ভরশীল ও সচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি, বিশ্বখাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াকুন শী। এসময় কৃষক কবির হোসেন ও কৃষাণী জুলেখা বেগমও বক্তব্য রাখেন।