
পবিত্র মাহে রমজানকে ঘিরে কুমিল্লা নগরীর জমজমাট ইফতার বাজার। এ যেন এক উৎসবের আমেজ। প্রথম রোজা থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে বাহারি ইফতার কেনা-বেচা। বিকেল গড়াতেই ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত হোটেল-রেস্তোরাঁ—সবখানেই দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়।
ইফতারের প্রায় এক ঘণ্টা আগেই অনেক দোকানে শেষ হয়ে যাচ্ছে জনপ্রিয় আইটেমগুলো।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর থেকেই নগরীর কান্দিরপাড়, নিউমার্কেট, রাজগঞ্জ, রানীবাজার, চকবাজার, মোঘলটুলি, রামঘাট, টমছমব্রীজ, পাদুয়ারবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখো দেখা বিক্রেতারা সাজিয়ে বসেন নানা পদের ইফতার সামগ্রী নিয়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল ৩টার পর থেকেই ক্রেতারা ভিড় করতে শুরু করেন। আসরের নামাজের পর ভিড় আরো বেড়ে যায়, আর ইফতারের আধাঘণ্টা আগে থাকে সবচেয়ে বেশি চাপ।
ইফতার বাজারে এবার সবচেয়ে বেশি চাহিদা হালিম, মাসকলাই (ডালভিত্তিক আইটেম) ও শাহী জিলাপির। পাশাপাশি পিঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, ছোলা, মুড়ি, জালি কাবাব, শাম্মি কাবাব, শিক কাবাব, চিকেন ফ্রাই, বোরহানি, ফিরনি, শাহী জর্দা, তেহারি, কাচ্চি বিরিয়ানি, কালাভুনা, মোরগ ও খাসির রানও রয়েছে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায়।
নগরীর কান্দিরপোড়, রাজগঞ্জ এলাকার একাধিক রেস্তোরাঁ ও ফুটপাতের দোকানে দেখা যায়, বিশাল হাঁড়িতে ধোঁয়া উঠছে হালিমের। ক্রেতারা দাঁড়িয়ে কিনছেন গরম গরম হালিম।
অনেকেই বলছেন, রমজানে হালিম ছাড়া ইফতার যেন অপূর্ণ থেকে যায়।
নগরীর চর্থা এলাকার বাসিন্দা নাঈম হাসান জানান, প্রতি বছরই কান্দিরপাড় থেকে ইফতার কিনতে আসি। বিশেষ করে বিফ, চিকেন ও মাটনের আলাদা হালিম পাওয়া যায়। পরিবারে সবাই হালিম পছন্দ করে, তাই দ্বিতীয় রোজায় হালিম কিনলে চলে এলাম।
চকবাজারে ইফতার কিনতে আসা মোবারক হোসেন বলেন, এখানে ইফতার কেনার আলাদা আনন্দ আছে।
বেশিরভাগ আইটেমের দাম আগের মতোই আছে, তবে কিছু কিছু পণ্যে সামান্য বাড়তি নেওয়া হচ্ছে।
চকবাজারের বিক্রেতা মো. বিপুল বলেন, মানুষ আসরের নামাজের পর থেকেই আসতে শুরু করেন। ইফতারের এক ঘণ্টা আগে ভিড় বেড়ে যায়। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে পিঁয়াজু, ছোলা, মুড়ি, বেগুনি আর জিলাপি।
নগরীর চায়না গার্ডেন রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক মো. সেলিম মুন্সী বলেন, রমজান উপলক্ষে তারা প্রতিদিন প্রায় একশ’ আইটেম প্রস্তুত করছেন। বিফ, চিকেন ও মাটন—তিন ধরনের হালিমই বিক্রি হচ্ছে সমান দামে। ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনায় মান বজায় রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সার্বিকভাবে রমজানের প্রথম দিনেই কুমিল্লার ইফতার বাজারে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। অলিগলির ভাসমান দোকান থেকে শুরু করে বড় রেস্তোরাঁ—সবখানেই জমেছে বেচাকেনা। বিক্রেতাদের প্রত্যাশা, রমজানজুড়ে প্রতিদিনই দুপুর থেকে মাগরিব পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়বে এবং এই প্রাণচাঞ্চল্য বজায় থাকবে পুরো মাসজুড়ে।