কারো বক্তব্য প্রচার বন্ধ রাখা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। পাশাপাশি এভাবে বক্তব্য প্রচার বন্ধের বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকের হাতেই গণমাধ্যম আছে, চাইলেই হাসিনার বক্তব্য শুনতে পারবে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সরাইল উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সংবর্ধনা ও আলোচনাসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘গণমাধ্যম কেবল ২৬টি চ্যানেল নয়। আজকাল প্রত্যেকের হাতেই গণমাধ্যম আছে।
যারা শুনতে চায়, তারা শুনতে পারবে। এভাবে কারো বক্তব্য প্রচার বন্ধ রাখা যায় না। আমরা শেখ হাসিনার আমলে দেখেছি তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। কোর্টের আদেশ দিয়ে নিষিদ্ধ ছিল।
সেটা যদি গণতন্ত্র না হয়, তাহলে এটাই বা কী করে গণতন্ত্র হয়?’
তিনি বলেন, ‘উনি (শেখ হাসিনা) বাংলাদেশের নাগরিক। উনার পরিবার এবং উনার বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অবদান আছে। উনার পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামে তখন আওয়ামী লীগ ছিল একমাত্র দল। সব কিছু বিবেচনায় উনার বয়সও হয়েছে, বাংলাদেশে যদি ফিরে না আসেন, উনার দলের অবস্থা কী দাঁড়াবে বা উনার এত দিনের যে রাজনৈতিক ইতিহাস—সেটারই বা কী হবে।
সব কিছু বিবেচনায় আমার কমনসেন্স বলে উনি ফিরে আসবেন।’
ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এটা দেশের আইন-শৃঙ্খলার যে নাজুক পরিস্থিতি—সেটাই ইঙ্গিত করে। দলগুলোর যে তাদের ছাত্রসংগঠনের ওপর কোনো রকম নিয়ন্ত্রণ নেই এবং দিনশেষে আবারও যে আমরা পুরনো রাজনীতিতেই ফিরে যাচ্ছি, সেটিই ইঙ্গিত করে।’
সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সরাইল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির এনাম খাঁ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারকে সংবর্ধনা জানানো হয়।
এদিকে রুমিন ফারহানাকে প্রধান অতিথি করায় উপজেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠান বয়কট করে স্থানীয় বিএনপি। রুমিন ফারহানা সরাইলের পর আশুগঞ্জের অনুষ্ঠানেও যোগ দেন। সেখানে জুলাই আন্দোলনসহ নানা বিষয় নিয়ে তিনি আলোচনা করেন।