অবসরে গেছেন অন্তত পাঁচ মাস আগে। কিন্তু তার কাছে রক্ষিত প্রতিষ্ঠানের এমইএমআইএস বা পাসওয়ার্ড নাম্বার দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ চাওয়ার পরেও অজ্ঞাত কারণে দিচ্ছেন না তিনি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, ফরম পূরণসহ শিক্ষকদের এমপিও, উচ্চতর স্কেল ও বিএড আবেদন করতে সমস্যা হচ্ছে।
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কাদিরাবাদ আলিম মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে।
মো. আব্দুল আজিজ গত প্রায় ৩৫ বছর ধর অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।
এ অবস্থায় ৬০ বছর হওয়ায় ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যান তিনি। এর মধ্যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পান প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষক মোবারক হোসেন। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম সচল রাখতে পাসওয়ার্ডের প্রয়োজন। এর মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজের কাছে বারবার পাসওয়ার্ড চাইলেও তিনি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।পরে জানা যায় বোর্ডের দেওয়া নির্দিষ্ট নাম্বার পাসওয়ার্ড হিসাবে নিবন্ধন না করে তিনি নিজের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারটি পাসওয়ার্ড হিসাবে নিবন্ধন করিয়ে নেন। এতে করে নিজের ব্যবহৃত মোবাইলে ওটিপিসহ সব ধরনের বার্তা যায়। কিন্তু ওই মোবাইল নাম্বার প্রতিষ্ঠানে না থাকায় নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বারবার তাগাদার পরেও অবসরে যাওয়া অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ ওই নাম্বার হস্তান্তর করছেন না। এ বিষয়ে তিনি গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাদিরাবাদ আলিম মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ বলেন, দরকার পড়লে দিয়াম, এইডা নিয়া অভিযোগের কি আছে? আমি তো এলাকাতেই আছি।
নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (দায়িত্বে) মো. মফিজুল ইসলাম জানান, ওই অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ একগুঁয়েমি করে প্রতিষ্ঠানের কোনো কাগজপত্রই দিতে চাচ্ছিলেন না। ১০ দিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পাসওয়ার্ড দিতে চাচ্ছেন না। এ বিষয়ে মাদরাসা বোর্ডে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ একটি আবেদনও করেছেন। যা অগ্রগামী করে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় ঈদের পরে ছুটি শেষে আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।