চট্টগ্রামে বিএএফ শাহীন কলেজের ছাত্র আশফাক কবির সাজিদ হত্যা মামলার পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭।রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে আনোয়ারা থানাধীন সরকার হাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার অনিক দাস (২০) এই মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি। তিনি আনোয়ারা থানার করইপুরা গ্রামের যীশু দাসের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আশফাক কবির সাজিদ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার দাতিনাথালীপাড়া গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার সুবাদে নগরীর ডিসি রোড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় সাজিদ থাকতেন।
গত ১২ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাজিদকে তার বন্ধু ফারদিন হাসান মুঠোফোনে কল দিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকার মোড়ে ডেকে নেন।
সেখানে কথা বলার সময় আইমন, অনিক, মাইকেল রানা, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ অজ্ঞাত ৫-৬ জন সাজিদকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। পরে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে সাজিদ কৌশলে তাদের হাত থেকে বাঁচতে দৌড়ে চকবাজার থানার ডিসি রোডের মৌসুমি আবাসিকের আমিন অ্যান্ড হাসান ম্যানশনের ৮ তলা ভবনের ভেতর প্রবেশ করেন। ভেতর থেকে ভবনের গেট আটকে দিয়ে তিনি অষ্টম তলায় উঠে যান। পেছনে ধাওয়া করে আসামিরা ভবনের সামনে অবস্থান নেন।এক পর্যায়ে দারোয়ানকে বলে তারা গেট খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর অষ্টম তলায় উঠে সাজিদকে এলোপাতাড়ি মারধর করে ও লিফটের খালি জায়গায় (নিচে) ফেলে দেন। এসময় স্থানীয়রা সাজিদকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ৯৯৯-এ কল দেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ সাজিদকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পরদিন ১৩ এপ্রিল সাজিদের বাবা বাদী হয়ে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।
র্যাব আরো জানায়, গ্রেপ্তার আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চকবাজার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের ধরতেও অভিযান চলছে।