গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জসিমউদ্দিনের বাসভবনের গার্ডরুমের বাথরুম থেকে নায়েক মো. হাবিবুর রহমান (৩৩) নামের এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত হাবিবুর রহমান নীলফামারী সদর উপজেলার সরদারপাড়ার মন্টু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বুধবার দুপুরে হাবিবুর তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে উচ্চস্বরে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এরপর তিনি বাথরুমে প্রবেশ করেন।
বাইরে থেকেও কিছু সময় তাঁর কথা শোনা যাচ্ছিল। পরে সবকিছু শান্ত হয়ে যায়।
দীর্ঘ সময় বাথরুমের দরজা বন্ধ থাকায় অন্য পুলিশ সদস্যদের সন্দেহ হয়। গার্ড কমান্ডার সোহেল মিয়াসহ কয়েকজন তাঁকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি।পরে দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলে তাঁকে রডের সঙ্গে গামছা পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১২ আগস্ট গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের বাংলোয় গার্ড হিসেবে যোগ দেন হাবিবুর রহমান। এর আগে তিনি ঢাকায় কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির হোসেনের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পুলিশ। সন্ধ্যার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল বলেন, ‘বিষয়টি মর্মান্তিক। নিহত নায়েক হাবিবুর আজ রোজা ছিলেন। যা কিছুই ঘটুক, আমাদের জানানো হলে হয়তো বিষয়টি এড়ানো যেত।’
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শরীফ আল রাজীব বলেন, বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে পৌনে ৪টার মধ্যে বাথরুমে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হাবিবুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
ভিডিও কলে স্ত্রীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তদন্ত না করে এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।’ নিহতের বাবা ও স্ত্রী মরদেহ গ্রহণের জন্য নীলফামারী থেকে গাইবান্ধায় আসছেন বলেও জানান তিনি।