দেশে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ৫২৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫১০ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৬৮ জন।
একই সময়ে ১৩৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪২ জন, আহত হয়েছেন ১২৪ জন।বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিল মাসে রেলপথে ৫৪টি দুর্ঘটনায় ৪৯ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া নৌপথে ৫টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। বিভাগটিতে ১৩৫টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত ও ২৬৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। সেখানে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৬৪ জন আহত হয়ে
ছেন।দুর্ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৯৯ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ৫৬ জন শিক্ষার্থী, ৫২ জন নারী, ৪৭ জন শিশু ও ২৫ জন পরিবহন শ্রমিক রয়েছেন। এ ছাড়া নিহত হয়েছেন ৫ জন শিক্ষক, ৩ জন চিকিৎসক, ১ জন সাংবাদিক, ১ জন আইনজীবী এবং ৮ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে এবং ৩১ দশমিক ৪৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘটেছে। এ ছাড়া ২২ দশমিক ৯৬ শতাংশ দুর্ঘটনা ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অবাধ চলাচল, ফিটনেসবিহীন যান, অদক্ষ চালক, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি মহাসড়কে রোড সাইন, রোড মার্কিং ও পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার অভাবও দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটি সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফিটনেস নিশ্চিত করা, মহাসড়কে আলোকসজ্জা বৃদ্ধি এবং পরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেছে।