জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল থেকে ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট নিষিদ্ধের বিধান বাতিল হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিপন্ন হবে বলে মনে করছে তামাকবিরোধী ১৭টি সংগঠন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা)সহ ১৭টি সংগঠনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে এই অভিমত তুলে ধরা হয়েছে।বিবৃতিতে বলা হয়, ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট নিষিদ্ধের ধারা বাতিল হওয়ায় কার্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ওইসব দ্রব্য বাজারে উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো, যা জনস্বাস্থ্য ও বিশেষ করে দেশের যুবসমাজের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে। মহামান্য আপিল বিভাগের রায়ে বাংলাদেশে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।ই-সিগারেট, ভ্যাপ এবং নিকোটিন পাউচ বৈধ করার পদক্ষেপ আদালতের সিদ্ধান্তের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৫ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে একটি যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। সেই ঐতিহাসিক উদ্যোগ বাংলাদেশকে তামাক নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ এশিয়ায় অগ্রণী ভূমিকায় নিয়ে এসেছিল। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধান বাতিল করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রোগ ও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত শুধু সেই অগ্রগতির বিপরীতমুখীই নয়, বরং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিরও পরিপন্থী।রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধান বাতিলের সিদ্ধান্তে রোগের অর্থনীতির জন্ম দেবে। বাংলাদেশে তামাকের কারণে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা রাজস্ব আয়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষার অর্থনীতির ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
বিবৃতিতে বলা হয়, মাত্র ৬১ কোটি টাকার বিনিয়োগের বিপরীতে একটি বহুজাতিক তামাক কম্পানিকে দেশে নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
বিশ্বের বহু দেশ যেখানে নিকোটিন পাউচ নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে এ ধরনের উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়া জনস্বার্থের পরিপন্থী। বৈশ্বিক বাস্তবতায় যখন অধিকাংশ দেশ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, তখন বাংলাদেশ বিপরীতমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় ২০০৫ সালে যেভাবে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল, সেই অঙ্গীকার রক্ষার্থে ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচসহ সকল ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো
প্রোডাক্ট নিষিদ্ধের জন্য দ্রুত কার্যকর আইন প্রণয়ন এবং ফিলিপ মরিসকে দেওয়া নিকোটিন পাউচ কারখানার অনুমোদন বাতিলের জোর দাবি জানাচ্ছি।