রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিবেন পুলিশ।
রবিবার (২৪ মে) সকাল ১১ টা ১৯ মিনিটি স্ত্রীসহ সোহেল রানাকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখে পুলিশ।আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে ঢাকার সিএমএম আদালতে তদন্ত কর্মকর্তার এ চার্জশিট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। চার্জশিট জমা হলে এ বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট গ্রহণ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মামলাটি বদলির আদেশ দিবেন আদালত। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিনের আদালতে আজ চার্জ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে ২০ মে বুধবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত জবানবন্দি দেয় আসামি সোহেল রানা। একই সঙ্গে ঘটনায় সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকার আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত তোলা হয়। শুনানি শেষে তাকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।
১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান।ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান।
আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী সোহেল রানা হীন কামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে।
পরে রামিসার মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করা হয়।
এছাড়া যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। আর তার মাথাটি বালতির মধ্যে রাখা হয়।
লোকজন জড়ো হলে রুমের জানালার গ্রিল কেটে সোহেল রানা পালিয়ে যায়। পরে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।