অল্প সময়ের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে একটি জাতীয় গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স, ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ আয়োজনের উদ্যোগ নেয় যুব সংগঠন ইয়াং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (ইউক্যান)। সহযোগিতায় ছিল পরিবেশ অধিদপ্তর। সমর্থন দেয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। অংশীদার ছিল নিরাপদ অ্যালায়েন্স।
বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা, পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে সমন্বিত নীতি ও কার্যকর অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়নকর্মীরা।প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। তবে সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। পানি নিরাপত্তা, নদী ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে দেখতে হবে।
তিনি জানান, নদী পুনরুদ্ধার, খাল খনন, নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। এসব উদ্যোগ পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরো নিরাপদ ভিত্তি গড়ে তুলবে।
ফারাক্কা চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেন ফরহাদ হোসেন আজাদ। এ ছাড়া পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু সংকট নিরসনে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তরুণদের ভূমিকাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ভুক্তভোগী হওয়ার পাশাপাশি তরুণরা এখন সমাধানেরও অংশ। তরুণদের কণ্ঠই জলবায়ু মোকাবেলা করতে পারবে।
এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক শওকত আলী বলেন, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ) ও জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। এখন প্রয়োজন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়।তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে অতিথি বক্তা অনুসন্ধানী সাংবাদিক মুনতাসির তাসরিপ পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় মানুষের ঝুঁকির বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
ইউক্যানের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক যুধিষ্ঠির চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, জলবায়ু বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। জলবায়ু সহনশীলতা, পানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
গোলটেবিল বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষক, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণ জলবায়ু নেতারা অংশ নেন।
আলোচনায় উঠে আসে জলবায়ু ঝুঁকির পরিবর্তিত চিত্র। গুরুত্ব পায় পানি সংকট, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস, উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ততা বৃদ্ধি, জলবায়ু অর্থায়ন এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের বিষয়। আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন বক্তারা।
আলোচকদের মতে, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান খুবই কম। তবু জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। দেশের প্রায় ৫৬ শতাংশ মানুষ উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করে। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোজন কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। প্রয়োজন জলবায়ু অর্থায়নের প্রবাহ বৃদ্ধি। পানিসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনাকেও অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বৈঠক শেষে অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু সহনশীলতা ও পানি নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত নীতিগত অবস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। বাস্তবায়নগত বাধা দূর করার সুপারিশ করেন। আন্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান। জলবায়ু অর্থায়নের কার্যকারিতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন।
আয়োজকেরা জানান, বৈঠকের আলোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতে একটি ‘পলিসি কনসেনসাস স্টেটমেন্ট’ প্রস্তুত করা হবে। পরে তা নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে উপস্থা
পন করা হবে।