শিরোনামঃ

সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্টার কার্যালয়: দলিল-দস্তাবেজের নির্ভরতার ঠিকানা, ব্যতিক্রমী উদ্যোগও আছে*  

মোঃ ইনসাফ আলী | সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি |
সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্টার কার্যালয়: দলিল-দস্তাবেজের নির্ভরতার ঠিকানা, ব্যতিক্রমী উদ্যোগও আছে*  
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

*সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্টার কার্যালয়: দলিল-দস্তাবেজের নির্ভরতার ঠিকানা, ব্যতিক্রমী উদ্যোগও আছে*

 

*মোঃ ইনসাফ আলী | সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি | দেশের প্রত্যয়*

 

*সিরাজগঞ্জ:* জমি-জমার দলিল রেজিস্ট্রি নিয়ে মানুষের ভোগান্তির কথা শুনতে শুনতে অভ্যস্ত আমরা। কিন্তু সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্টার কার্যালয় সেই ধারণা কিছুটা হলেও পাল্টে দিচ্ছে। দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা আর আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় এটি এখন সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে। ঈদের ছুটির পর থেকে এখানে দলিল রেজিস্ট্রির চাপ বেড়েছে, তবু শৃঙ্খলা আছে।

 

*যে গুণাবলীর জন্য কার্যালয়টি এগিয়ে:*

 

*১. দিকনির্দেশনায় আন্তরিকতা:* অফিসের প্রবেশমুখেই ‘হেল্প ডেস্ক’। নতুন মানুষ এলে দলিল লেখক সমিতির পাশাপাশি অফিস স্টাফরাই ফর্ম পূরণ, ফি জমা, দলিলের কাগজপত্র কী লাগবে—সব বুঝিয়ে দেন। ভুল-ত্রুটি আগেই ধরা পড়ে, পরে হয়রানি কম হয়।

 

*২. ডিজিটালায়নের ছোঁয়া:* ‘অটো রেজিস্ট্রেশন সফটওয়্যার’ চালু থাকায় দলিলের এন্ট্রি, ফি হিসাব, নামজারি কপি সংযুক্তি দ্রুত হচ্ছে। দলিল রেজিস্ট্রির পর SMS-এর মাধ্যমে দাতা-গ্রহীতা মোবাইলে তথ্য পেয়ে যান। এতে স্বচ্ছতা বেড়েছে, দালের দৌরাত্ম্য কমেছে।

 

*৩. শৃঙ্খলা ও পরিবেশ:* টোকেন সিস্টেমে কাজ হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত দলিল গ্রহণ, বিকেলে দলিল প্রদান—সময় মেনে চলা হয়। অপেক্ষাগারের বেঞ্চ, ফ্যান, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা আছে। মহিলাদের জন্য আলাদা বসার জায়গা রাখা হয়েছে।

 

*৪. দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান:* জেলা রেজিস্টার নিজেই মাঝে মাঝে কাউন্টারে এসে খোঁজ নেন। সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে সেবাগ্রহীতারা স্বস্তি পাচ্ছেন।

 

*কার্যালয়ের ‘ব্যতিক্রম’ বা বিশেষ উদ্যোগ:*

 

সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্টার কার্যালয়ের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো *‘ই-দলিল সহায়তা বুথ’*। জেলার অনেক মানুষ ডিজিটাল বিষয়ে কম বোঝেন। তাদের জন্য অফিসের ভেতরেই একটি বুথ করা হয়েছে। সেখানে কম্পিউটার অপারেটর বিনামূল্যে দলিলের খসড়া টাইপ, অনলাইনে জমির খতিয়ান বের করা, পর্চা মিলানো শিখিয়ে দেন। অন্য জেলায় এই সেবা সচরাচর চোখে পড়ে না।

 

আরেকটি ব্যতিক্রম—*‘বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীবান্ধব সেবা’*। ৬০ বছরের বেশি বয়সী বা শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তি এলে তাদের জন্য আলাদা কাউন্টার ও চেয়ারে বসেই কাজ সেরে দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। ঈদের পরদিন ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে চেয়ারে বসেই দলিল সম্পাদন করতে দেখা গেছে।

 

*সেবাগ্রহীতারা যা বলছেন:*

শাহজাদপুর থেকে আসা দলিল গ্রহীতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে দলিল করতে গেলে সারাদিন লাগত। এখন টোকেন নিয়ে ২-৩ ঘণ্টায় কাজ শেষ। হেল্প ডেস্কের ছেলেটা সব বুঝিয়ে দিয়েছে, এক টাকাও বাড়তি লাগেনি।”

 

*যা আরও উন্নতি হতে পারে:*

দলিল লেখকদের বসার জায়গা ও রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের জন্য ছাউনির ব্যবস্থা আরও বাড়ানো দরকার। আর অনলাইনে দলিলের নকল কপি তাৎক্ষণিক ডাউনলোডের সুবিধা চালু হলে মানুষের হয়রানি শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।

 

*শেষ কথা:*

সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্টার কার্যালয় প্রমাণ করছে—সরকারি অফিস মানেই ভোগান্তি নয়। সঠিক দিকনির্দেশনা, আন্তরিকতা আর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ থাকলে সেবার মান বদলে যায়। ‘মানুষের জন্য সেবা’—এই মন্ত্রেই এগিয়ে যাক রেজিস্টার অফিস।

জরুরী বিজ্ঞপ্তি: বিঃদ্রঃএই ওয়েব সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।