শিরোনামঃ

বিসিসির পানির প্লান্টে প্রধান নির্বাহীর পশুখামার!

অনলাইন ডেক্স
বিসিসির পানির প্লান্টে প্রধান নির্বাহীর পশুখামার!
Getting your Trinity Audio player ready...

যে স্থাপনার দায়িত্ব নগরবাসীর জন্য বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করা, সেখানেই যদি জন্ম নেয় দূষণের উৎস, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই। বরিশালের রূপাতলী ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (পানি শোধনাগার) ঘিরে ঘটেছে এমন ঘটনা।

জনস্বার্থে নির্মাণ করা এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ভেতরই গড়ে উঠেছে ব্যক্তিগত পশুখামার। আর সেই খামার ঘিরে চলছে দখলদারি ও ক্ষমতার অপব্যবহার।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বুধবার (১৫ এপ্রিল) আকস্মিক প্লান্ট পরিদর্শনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।

কালের কণ্ঠের কাছে থাকা ৪৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রশাসক শিরীন পানির প্লান্ট পরিদর্শনে গেলে সেখানে বেশ কয়েকটি ছাগল তার আশপাশে ঘুরতে থাকে। দায়িত্বরত কর্মচারীকে তিনি জানতে চান, ছাগলগুলো কার। জবাবে ওই কর্মচারী মাথা নিচু করে বলেন, সিইও (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) স্যার এগুলো লালন-পালনের জন্য বলেছেন।

কথাটি শুনে প্রশাসক কিছুটা থমকে যান। পরে বলেন, ‘ছাগলগুলো দ্রুত প্লান্ট থেকে সরিয়ে নিতে হবে। কারণ অতি শিগগির প্লান্টটি উৎপাদনে যাচ্ছে।’

বিসিসির শীর্ষস্থানীয় অন্তত দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্লান্টের নির্ধারিত জমির একটি বড় অংশ ঘিরে রাখা হয়েছে।

সেখানে পালন করা হচ্ছে ছাগল আর ভেড়া। শুধু তা-ই নয়, পশুখামার টিকিয়ে রাখতে প্লান্টের ভেতরই করা হয়েছে ঘাস চাষের ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে একটি জনকল্যাণমূলক অবকাঠামো কার্যত ব্যক্তিগত ব্যবহারের আওতায় চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রশাসক সরেজমিনে যাওয়ার আগেই অনেক কিছু সরিয়ে ফেলা হয়। 

স্থানীয়দের দাবি, এই খামারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সিটি করপোরেশনের ভেতরের প্রভাবশালী একটি অংশ।অভিযোগের তীর সরাসরি গিয়ে পড়ছে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দিকে। যদিও বিষয়টি একাধিক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, পশুগুলো প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারই।

 

তবে আরো গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, এই খামার পরিচালনায় ব্যবহার করা হচ্ছে করপোরেশনের বেতনভুক্ত কর্মচারীদের। অন্তত চারজন কর্মচারী নিয়মিত পশুর দেখভাল, খাবার দেওয়া ও পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন, যা সরকারি সম্পদের সুস্পষ্ট অপব্যবহার।

পরিবেশকর্মী রফিকুল আলম বলেন, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনায় পশুপালন মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পশুর বর্জ্য থেকে নির্গত

ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অ্যামোনিয়া বাতাসে ছড়িয়ে শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও ত্বকের সংক্রমণসহ নানা জটিলতা বাড়াতে পারে। এর চেয়েও বড় আশঙ্কা হলো, বৃষ্টির পানির সঙ্গে এই বর্জ্য মিশে আশপাশের পানির উৎস দূষিত হয়ে পড়লে তার প্রভাব পড়বে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর।

প্লান্টসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, খামার থেকে ছড়ানো তীব্র দুর্গন্ধে নিত্যদিনের জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য অপসারণ না করায় পরিবেশ পরিস্থিতিও ক্রমে খারাপ হচ্ছে। সম্প্রতি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পহেলা বৈশাখের রাতেই ভেড়াগুলো সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

বিসিসির আইন উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা সাবেক একাধিক আইনজীবী বলেন, সরকারি প্রকল্পের জমি

ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত কাজে নিয়োজিত করা দুর্নীতির আওতায় পড়ে, যা তদন্তের বিষয় হতে পারে। পরিবেশদূষণের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট আইনেও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

এই পরিস্থিতির মাঝেই আকস্মিকভাবে প্লান্টটি পরিদর্শন করেন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। তিনি বলেন, বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছাগল কিংবা ভেড়া, কিছুই আমার না। এগুলো প্লান্টের পাশের একজনের। তিনি আমার নাম ব্যবহার করে পশুগুলো ভেতরে রেখে লালন-পালন করছিলেন। আমি বলে দিয়েছি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে। ভেড়াগুলো

ইতোমধ্যে সরানো হয়েছে, ছাগলগুলোও সরিয়ে ফেলা হবে।’

কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘এ মাসেই প্লান্ট পরীক্ষামূলক উৎপাদনে গেছে। কয়েকটি পাইপে লিকেজ ধরা পড়েছে। সেগুলো মেরামত করে চলতি মাসের শেষ নাগাদ পুরোদমে পানি সরবরাহ শুরু হবে।’

উল্লেখ্য, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় বরিশাল নগরে দুটি পানি শোধনাগারের নির্মাণ শুরু হয়। উত্তরের বেলতলায় ১৯ কোটি এবং দক্ষিণের রূপাতলীতে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ শেষ হয় ২০১৫ সালের জুনে।

জরুরী বিজ্ঞপ্তি: বিঃদ্রঃএই ওয়েব সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।